ফুটি – বাঙ্গি – খরমুজ

  • ফলের নামঃ ফুটি/বাঙ্গি,
  • ইংরাজি নামঃ:  Muskmelon ,
  • বৈজ্ঞানিক নামঃ Cucumis Melo,
  • জগৎ: Plantae,
  • শ্রেণীঃ Magnoliopsida,
  • বর্গঃ Cucurbitales,
  • পরিবার:Cucurbitaceae
  • গণ:Cucumis

ফুটি/বাঙ্গির গুরুত্ব: এই ফল খুবই উপকারী। ফুটি নানান ভাবে নানান কাজে লাগে। এছাড়াও এতে অনেক ভিটামিন ও খণিজ পাওয়া যায়।

ফুটির বিভিন্ন নামঃ ফুটি,বাঙ্গি,খরমুজ,কাঁকুড় ইত্যাদী।

কোথায় পাওয়া যায়ঃ

ভারতকে শসার আদি বাসস্থান ধরা হয়। বর্তমানে এটি ভারত, বাংলাদেশ, ,আফ্রিকা মহাদেশ, আমেরিকার বিস্তির্ণ অঞ্চল, চীন,শ্রীলংকা, পাকিস্তান, বার্মা, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, হাওয়াই, ফিলিপাইন সহ এশিয়া মহাদেশের বিস্তির্ণ অংশ, ইউরোপে পাওয়া যায়।

ফুটির বৈশিষ্ট্য: 

  • ফুটি এক প্রকার লতানো গাছ,
  • এটি একটি পুষ্টিকর সব্জি/ফল।
  • এর ভেতরে বীজ রয়েছে।
  • ফুটির ফল লম্বা বা গোলাকার আকৃতির হয়।
  • এর ফুল গন্ধবিহীন ও হলুদ রঙের হয়।
  • এর বাইরের রঙ সবুজ। তবে পাকলে হলুদ হয়।
  • একটু বেশি পেকে গেলে বাঙ্গি সহজে নিজে থেকে ফেটে যায়।
  • ফলের বাইরের দিকটা মিষ্টি কুমড়ার মত হালকা ডোরা কাটা খাঁজযুক্ত।   

ফুটির ব্যবহারঃ

ফুটির থেকে যা তৈরী হয়। সেগুলি হল :

  • কাঁচ ফুটি সব্জী হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
  • জুস ,ত্বকের সমস্যার সমাধানে কাজে লাগে।
  • ইত্যাদী।

ফুটি / বাঙ্গিতে বিভিন্ন ভিটামিন ও খনিজ পদার্থের সমাহারঃ

ফুটিতে যে সমস্ত ভিটামিন ও খনিজ পদার্থ বর্তমান সেগুলি হলঃ

  • ভিটামিন এ,
  • ভিটামিন বি,
  • ভিটামিন সি,
  • পটাশিয়াম,
  • ফসফরাস,
  • ফলিক এ্যাসিড,
  • ক্যালসিয়াম,
  • প্রোটিন,
  • লোহা,
  • সোডিয়াম,
  • আঁশ,
  • শর্করা,
  • কোলেস্টেরল,
  • ক্যারোটিনোয়িড,
  • জল,
  • স্নেহ পদার্থ,
  • নিয়সিন,
  • ম্যাগনেশিয়াম, 

রোগ প্রতিরোধে ফুটিঃ

  • ·        উচ্চ রক্তচাপ কমাতে ফুটি সহয়তা করে।
  • ·        ফুটি ওজন কমাতে বেশ কার্যকর।
  • ·        ত্বকের আর্দ্রতা ও উজ্জ্বলতা ঠিক রাখতে সহয়তা করে বাঙ্গি ।
  • ·        বাঙ্গি খেলে দাঁত ও হাড় মজবুত হয়।
  • ·        কোষ্ঠকাঠিন্য, অর্শ, পেট ফাঁপা প্রতিরোধে ফুটি যথেস্ট কার্যকর।
  • ·        বাঙ্গি হজম শক্তি বৃদ্ধি ঘটায়।
  • ·        বাঙ্ঙ্গিতে জল থাকে, যা দেহের জলের ভারসাম্য ঠিক রাখতে সাহায্য করে।
  • ·        বাঙ্গি খেলে চুলের গোড়া শক্ত হয়। চুল উজ্জ্বল হয়।
  • ·        অ্যাসিডিটি, আলসার, নিদ্রাহীনতা, ক্ষুধামান্দ্য রোধ করতে সাহায্য করে বাঙ্গি।
  • ·        বাঙ্গি মানষিক চাপ রক্ষা করে।
  • ·        ব্রনের সমস্যা কিংবা একজিমা সমস্যায় যারা ভোগেন তাদের জন্য বাঙ্গি অনেক বেশি উপকারী।
  • ·        বাঙ্গি শরীরের ক্ষত দ্রুত সারাতে সহয়তা করে।
  • ·        বাঙ্গি দেহের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে।
  • ·        ডায়াবেটিস রোগের উপকারে লাগে।
  • ·        নিয়মিত বাঙ্গি খেলে শরীরে খনিজ,ভিটামিন ও পুষ্টির ঘাতটি মেটে।
  • ·        বাঙ্গিতে জল থাকায় শরীরের ভেতর বিষকে বার করে দেয়।
  • ·        গর্ভবতী মায়েদের জন্য এটি খুব উপকারী ফল।
  • ·        বাঙ্গি ত্বকে বয়সের ছাপ এবং ত্বক কুচকে যাওয়া প্রতিরোধ করে। 

ফুটির বিভিন্ন জাতঃ

প্রধানত দুই জাতের বাঙ্গি দেখা যায়—বেলে ও এঁটেল বাঙ্গি।

টবে ফুটি/বাঙ্গি/খরমুজ চাষের জন্য যা করা দরকার তা হলঃ-

বংশবিস্তার পদ্ধতি: 

বাঙ্গি বা ফুটি বীজ থেকে বংশবিস্তার হয়। এছাড়া টবে চারা বসিয়ে চাষ হয়।

জলবায়ু

ফুটি গাছের চাষের জন্য খুব বেশী আর্দ্র মাটি প্রয়োজন হয় না। তবে মাটি যাতে বেশী ভিজে কাদা কাদা না হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। আর কোনো কারণে মাটি স্যাঁতস্যাঁতে থাকলে সেই কয়দিন জল দেওয়ার প্রয়োজন নেই। নিয়ম করে জল দিতে হবে। বাঙ্গি চাষের জন্য শুষ্ক ও উষ্ণ জলবায়ু সবচেয়ে উপযোগী।  গরমে ফুটি চাষ বেশী হয়। ফুটি চাষে জল নিষ্কাষণী ব্যবস্থা থাকতে হবে।

ফুটি উৎপাদনঃ

ফুটি সাধারণত গরমে বেশী পরিমান উৎপন্ন হয়।

টব..ফুটি চাষের জন্য মাঝারি ও বড় সাইজের টব হলে ভাল হয়। এছাড়া অর্দ্ধেক ড্রাম হলে ভাল হয়। প্রত্যেকটি টবে ৪-৫ টি বীজ ফেলুন। এর একটি থেকে গাছ হলে সেটি রাখুন। আর চারা পুঁতলে ২-৩ টি চারা পুঁতুন।

সার মাটি..

দোঁয়াশ ও বেলে মাটিতে ফুটি গাছের ভাল চাষ হয়। আপনি যদি টবে ফুটি চাষ করতে চান তাহলে প্রথমেই যেটি করবেন, পরিমান মতো  দো-আঁশ বা বেলে মাটি এর সাথে কম্পোস্ট সার, ইউরিয়া, এমওপি,বোরাক্স সার,জিপসাম মিশিয়ে নিন।  এতে টবের মাটি ভাল থাকবে। এর সঙ্গে কিছুটা পরিমান পাতা পচা সার, গোবর, খৈল  মিশিয়ে মাটি তৈরি করলে ভাল হয়। সার মেশানোর কিছু দিন পর আবার উক্ত মাটিকে খুচিয়ে দিয়ে কয়েক দিন রেখে দিতে হবে। এর পর মাটি ঝুরঝুরা হলে কলম চারাটি এনে টবে বসাতে হবে। ফুটি চারা টবে স্থাপনের পরে অল্প জল দিতে হবে। ফুটির জন্য মাটি সব সময় নরম ঝুরঝুরে থাকলে গাছ তাড়াতাড়ি বাড়ে। মাটি হবে জল ধরে রাখার ক্ষমতা সম্পন্ন। 

সার প্রদান

চাপান সার দেবেন চারা বসানোর মাসখানেক বাদে। দরকার হলে ৬ সপ্তাহ পর থেকে তরল সার দেবেন।

পরিচর্যা

সার হিসেবে চাপান সার বা জৈব সার দিতে হবে। প্রতিদিন ফুটি গাছে সকাল বিকাল প্রচুর জল প্রয়োজন হয়। তাই নিয়মিত জল দিতে হবে।  ফুটি গাছে জল দেওয়ার সময় খেয়াল রাখতে হবে যাতে গোড়ায় জল না জমে। মাসে একবার/দুবার মাটি খুঁচিয়ে দিতে হবে। যাতে মাটি ঝুরঝুরে থাকে। ফুটি গাছে সর্বদা যথেষ্ট সূর্যের আলো ও বাতাসের ব্যবস্থা থাকতে হবে। তাহলে ফলন ভালো হবে। গাছের সঠিক পরিচর্যা নিশ্চিত করতে এর গোড়ায় নিয়মিত ইউরিয়া সহ,  ও নানা ধরণের জৈব সার প্রয়োগ করুন। এক বছর পর টবের কিছুটা মাটি পরিবর্তন করতে হবে। এছাড়াও গাছের গোড়ায় যেন কোন ধরনের আগাছা না হয় দেখতে হবে। নিয়মিত আগাছা পরিষ্কার করতে হবে। ছাদ বা উঠোনে যেন এর বেয়ে চলা যেন বাধা প্রাপ্ত না হয়, দেখতে হবে। মাসে একবার পাতা ছাঁটা উচিৎ। বেশী বড় হয়ে গেলে আগা কাঁটতে হবে। লতানো গাছ বলে একটি অবলম্বন থাকা দরকার।

ফুটি/বাঙ্গি/খরমুজ বা ফুটি গাছের পোকামাকড় দমনঃ

বাঙ্গি গাছে মাছি পোকা দেখা যায়। এরা কচি ফল ও ফুলে ডিম পেড়ে তা নষ্ট করে দেয়। এছাড়া গাছের পাতা ফুটো করে দেয়। কান্ড এবং পাতার রস চুষে রস টেনে গাছের ক্ষতি করে। কীটনাশকও ব্যবহার করতে পারেন।