মহাকালেশ্বর জ্যোতির্লিঙ্গ

এটিই একমাত্র দক্ষিণমুখী মন্দির। মহাকালেশ্বরের মূর্তিটি  ‘দক্ষিণামূর্তি’।এই শব্দের অর্থ ‘যাঁর মুখ দক্ষিণ দিকে’। এই মূর্তির বিশেষত্ব এই যে” তান্ত্রিক শিবনেত্র “প্রথাটি বারোটি জ্যোতির্লিঙ্গের মধ্যে একমাত্র মহাকালেশ্বর মন্দিরে দেখা যায়। ‘ওঙ্কারেশ্বর মহাদেবে’র মূর্তিটি মহাকাল মন্দিরের গর্ভগৃহের উপরে স্থাপিত। গর্ভগৃহের পশ্চিম, উত্তর ও পূর্ব দিকে যথাক্রমে গনেশ, পার্বতী ও কার্তিকের মূর্তি স্থাপিত আছে।  দক্ষিণ দিকে শিবের বাহন  নন্দীর মূর্তি স্থাপিত আছে।।

মন্দিরের তৃতীয় তলে  নাগচন্দ্রেশ্বর মূর্তি আছে। এটি একমাত্র  নাগ পঞ্চমীর দিন দর্শনের জন্য খুলে দেওয়া হয়। মন্দিরের পাঁচটি তল আছে। তার মধ্যে একটি ভূগর্ভে অবস্থিত। এছাড়া মন্দিরে একটি বিশাল প্রাঙ্গন রয়েছে। হ্রদের দিকে অবস্থিত এই প্রাঙ্গনটি প্রাচীর দিয়ে ঘেরা। মন্দিরের শিখর বা চূড়াটি শাস্ত্রে উল্লিখিত পবিত্র বস্ত্র দ্বারা ঢাকা থাকে। ভূগর্ভস্থ কক্ষটির পথটি পিতলের প্রদীপ দ্বারা আলোকিত হয়। মনে করা হয়, দেবতাকে এই কক্ষেই প্রসাদ দেওয়া হয়। এটি মন্দিরের একটি স্বতন্ত্র প্রথা। কারণ, এই রকম প্রথা অন্য কোনো মন্দিরে দেখা যায় নামন্দিরের গর্ভগৃহে যেখানে শিবলিঙ্গটি রয়েছে সেখানে সিলিং-এ একটি  শ্রীযন্ত্র উলটো করে ঝোলানো থাকে।

মধ্য প্রদেশের মধ্যে অবস্থিত  মহাকালেশ্বর জ্যোতির্লিঙ্গ অন্যতম শিব মন্দির। এখানে সারা বছর অসংখ্য পুণ্যার্থী আসেন এই মন্দিরে পূজা দিতে। উজ্জয়নের অন্যান্য মন্দিরের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল হরসিদ্ধি মাতার মন্দির, বড় গণেশ মন্দির, চিন্তামণি গণেশ মন্দির, গোপাল মন্দির, গড়কালিকা মন্দির (কবি কালীদাসের আরাধ্য দেবী), মঙ্গলনাথ মন্দির। শহর ছাড়িয়ে সন্দীপন আশ্রম। বলা হয়, সন্দীপন মুনির এই আশ্রমে থেকেই বিদ্যাচর্চা করতেন কৃষ্ণ-বলরাম ও কৃষ্ণ-সখা সুদামা। প্রাচীন ভৈরবগড় বা এখনকার ভেরুগড়ে কালভৈরব মন্দির উজ্জয়নের অন্যতম আকর্ষণ।