টবে হাসনাহানা বা হাসনাহেনা ফুলের চাষ

হাসনাহানা বা হাসনাহেনা ফুলের পরিচিতি:

  • ফুলের নামঃ  হাসনাহানা,
  • ইংরাজী নামঃ Night-blooming cestrum, Night blooming jasmine
  • বৈজ্ঞানিক নামঃ Cestrum nocturnum
  • পরিবারঃ Solanaceae
  • বর্গঃ Solanales
  • গণঃ Cestrum
  • জগৎঃ Plantae

হাসনাহানা ফুলের গুরুত্ব: সৌন্দর্য্যবৃদ্ধিকারী ও গন্ধপ্রদানকারী ফুল হিসাবে হাসনাহানা ফুলের গুরুত্ব অনেক। এর রোগ প্রতিরোধক ক্ষমতা অনেক। কথিত এই ফুলের তীব্র গন্ধে নাকি সাপ আসে। 

কখন পাওয়া যায়ঃ

শীতকাল ছাড়া সারা বছর সাধারণত এই ফুলটি দেখা যায়। তবে বর্ষাকালে গাছ ভরে ফুল হয়। দূর থেকে এ ফুলের গন্ধ অসাধারণ অনুভূতি সৃষ্ঠি করে। রাতে এর সুবাষ মনকে আন্দোলিত করে তোলে।

কোথায় পাওয়া যায়ঃ

হাসনাহেনার আদি নিবাস ওয়েষ্ট ইন্ডিজে। বর্তমানে এটি থাইল্যান্ড, বাংলাদেশ, মায়ানমার, ভারত,  মালয়েশিয়া,চীন সহ এশিয়ার বিস্তির্ণ অঞ্চল, ইউরোপের বিস্তির্ণ অংশে  দেখতে পাওয়া যায়।

হাসনাহেনার  বৈশিষ্ট্য: 

  • এটি একটি গুল্ম জাতীয় গাছ।
  • হাসনাহেনা ঝোপা আকৃতির ফুল গাছ।
  • হাসনাহানা ফুল রাতে ফোটে ।
  • একটি গোছায় অনেক ফুল ফোটে।
  • শাখা-প্রশাখার অগ্রভাগে ফুল ধরে।
  • হাসনাহানা ফুল ছোট ও সুগন্ধযুক্ত।
  • সাধারণত ফুল সতেজ থাকে  ৫-৬ দিন পর্যন্ত।

ব্যবহারঃ হাসনাহেনা ফুল টবে,বাড়ির উঠান ইত্যাদি জায়গায় হলে সেখানকার সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে।

হাসনাহেনা ফুলের রং:


হাসনাহেনা

হাসনাহেনা ফুলের পাপড়ি সাধারণত পাঁচটি হয়। পাপড়িগুলি সাদা রংয়ের হয়। আবার ঘিয়ে রংয়েরও হয়। ফুলটি নলাকার হয়। পাপড়ি সাধারণত ২ সেন্টিমিটার পর্যন্ত লম্বা হয়।  

টবে হাসনাহেনা ফুলের চাষের জন্য যা করা দরকার তা হলঃ

বংশবিস্তার পদ্ধতি:হাসনাহেনা ফুল দুই প্রকার পদ্ধতিতে বংশবিস্তার করা সম্ভব।

  • বীজ থেকে বংশবিস্তার করা সম্ভব।
  • গুটি কলম পদ্ধতিতে বংশবিস্তার করা যায়।

জলবায়ু

হাসনাহানা গাছের চাষের জন্য খুব বেশী নয় এমন আর্দ্র মাটি প্রয়োজন। তবে মাটি যাতে বেশী ভিজে কাদা কাদা না হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। আর কোনো কারণে মাটি স্যাঁতসেঁতে থাকলে সেই কয়দিন জল দেওয়ার প্রয়োজন নেই। এছাড়া প্রতিদিন নিয়ম করে জল দেওয়া উচিৎ।

টব..হাসনাহেনা ফুল চাষের জন্য ২৫ সেমি উচ্চতার টব হলে ভাল হয়।

সার মাটি.. যে কোনও মাটিতেই হাসনাহানা গাছ জন্মায়।  তবে ভাল চাষের জন্য ভারী দোঁয়াশ মাটি হলে ভাল হয়। আপনি যদি টবে হাসনাহানা চাষ করতে চান তাহলে প্রথমেই যেটি করবেন, পরিমান মতো  দো-আঁশ   বা বেলে মাটি, এর সাথে একমুঠো হাঁড়ের গুঁড়ো, কিছুটা সুপার ফসফেট ও দু’মুঠো ছাই মিশিয়ে নিন।  এতে টবের মাটি ভাল থাকবে। এর সঙ্গে কিছুটা পরিমান পাতা পচা সার, গোবর, খৈল ও কিছুটা  টিএসপি সার মিশিয়ে মাটি তৈরি করলে ভাল হয়।

সার.. গোবর সার, চাপান সার ও তরল সার এই গাছের জন্য ভাল। নিমের গুড়ো খোল, কাঠের ভষ্ম, গুঁড়ো হাড়, ও গোবড় সার মিশিয়ে তৈরী করুণ চাপান সার। বর্ষাকাল থেকে হেমন্তকাল পর্যন্ত তরল সার দিতে হবে।

পরিচর্যা

মার্চের মাঝামাঝি বীজ পুঁতলে বর্ষাকালে ফুল পাওয়া যায়। সার হিসেবে চাপান সার বা তরল সার দিতে হবে। হাসনাহেনা গাছে জল দেওয়ার সময় খেয়াল রাখতে হবে যাতে গোড়ায় জল না জমে।  মাসে দুবার মাটি খুঁচিয়ে দিতে হবে। মাটি যদি কোনো কারণে স্যাঁতস্যাঁতে হয়, তাহলে কলি ঝরে যাবে। খেয়াল রাখতে হবে বর্ষায় যেন মাটিতে টব না রাখা হয়। ঝড়ে গাছের গোড়া নড়ে গেলে গাছ মরে যাওয়ার আশঙ্খা থাকে। তাই ঝড় ও মাটি বাহিত ছত্রাক থেকে গাছকে রক্ষা করতে হয়। গ্রীষ্ম কালে সকাল বিকেল জল দিতে হবে।

হাসনাহানা ফুলের ঔষধি গুণ

হাসনাহানা গাছের নানান ঔষধি গুন রয়েছে।

  • হাসনাহানা গাছের পাতা থেতো করে দুধের সাথে উষ্ণ করে খেলে আমাশয় দূর হয়।
  • হাসনাহানা গাছের মূল রস করে খেলে আমাশয় দূর হয়।
  • হাসনাহানা গাছের পাতা থেতো করে রস করে খেলে স্রাব পরিষ্কার হবে। যন্ত্রণা থাকবে না।

ডাল ছাঁটাই

একটি সতেজ গাছ তৈরির প্রক্রিয়াটি হল গাছটি বড় হলে ডালের অনেকটা ছেটে দিতে হবে। অবশ্যই দেখবেন তার সিজনের ফুল দেওয়া শেষ হয়েছে কিনা। এরপর মঞ্জরীও ছেঁটে দিতে পারেন। এরপর কয়েকদিন পর কান্ডের পাশ থেকে শাখা বের হবে, তাদের মধ্যে কয়েকটি শাখা রেখে বাকীগুলি ছিড়ে ফেলুন। শীতকালের শেষে গাছের অর্দ্ধেক উচ্চতা থেকে ছেঁটে ফেলতে হবে। সময়মতো গাছের গোড়ায় মাটি দিন। ছাঁটাই এর পরে চাউবান্টিয়া পেন্ট ব্যবহার করুন।