টবে শিউলি ফুলের চাষ

শিউলি ফুলের পরিচিতি:

  • ফুলের নামঃ  শিউলি/শেফালি,
  • ইংরাজি নাম: Night-flowering Jasmine,
  • বৈজ্ঞানিক নামঃ Nyctanthes arbortristis
  • পরিবারঃ Oleaceae
  • প্রজাতি: Nyctanthes

শিউলি ফুলের গুরুত্ব: পুজোর ফুল হিসাবে শিউলি ফুলের গুরুত্ব অনেক। বিভিন্ন পুজোতে এই ফুল ব্যবহৃত হয়। শুধু তাই নয়। শিউলি ফুল ও তর পাতার রোগ প্রতিরোধক ক্ষমতা অনেক। এই ফুলের পাতার নির্যাশ থেকে বেশ কিছু আয়ুর্বেদিক ওষুধ তৈরী হয়।

শিউলি ফুলের বিভিন্ন নাম:

শিউলি ফুলের বিভিন্ন নাম বর্তমান। যেমন কোরাল জেসমিন, পারিজাত,হরসিংগার, রাগাপুষ্পী, মালিকা ,গঙ্গা শিউলি,শেফালিকা, পারিজাতা, পারিজাতাকা, রাগাপুস্পি,  খারাপাত্রাকা,  প্রজক্তা ইত্যাদী।

কখন পাওয়া যায়ঃ

শরৎ ও হেমন্ত কালে সাধারণত এই ফুলটি দেখা যায়। শিশির ভেজা মাটির উপর এর পড়ে থাকার দৃশ্যটি অসাধারণ। তবে আজকাল অন্য সময়েও এই ফুল ফুটতে দেখা যায়।

কোথায় পাওয়া যায়ঃ

শিউলি ফুল থাইল্যান্ড , বাংলাদেশ, মায়ানমার, ভারত,  নেপাল, ও পাকিস্তানের বিস্তির্ণ এলাকা জুড়ে দেখতে পাওয়া যায়।

শিউলির  বৈশিষ্ট্য: 

  • এটি একটি ছোটো আকারের বহুবর্ষজীবি ও বৃক্ষ জাতীয় গাছ,
  • শিউলির ফুলে  পাঁচ থেকে সাতটি সাদা বৃতি ও মাঝে রয়েছে কমলা টিউবের মত বৃন্ত।
  • এর ফল চ্যাপ্টা। দেখতে অনেকটা হৃদপিন্ডের মতো।
  • শিউলি ফুল রাতে ফোটে এবং সকালে ঝরে যায়।
  • শাখা-প্রশাখার অগ্রভাগে ফুল ধরে।
  • শিউলি ফুল ছোট ও সুগন্ধযুক্ত।
  • সাধারণত ফুল সতেজ থাকে  ২-৩ দিন পর্যন্ত।

ব্যবহারঃ শিউলি ফুল টবে,বাড়ির উঠান ইদ্যাদি জায়গায় সাজালে সেখানকার সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে।

শিউলি ফুলের রং:

শিউলি ফুলের পাপড়ি সাধারণত পাঁচ থেকে সাতটি হয়। পাপড়িগুলি সাদা রংয়ের হয়। আর বৃন্তটি টিউবের মতো কমলা রংয়ের।

টবে শিউলি ফুলের চাষের জন্য যা করা দরকার তা হলঃ

বংশবিস্তার পদ্ধতি:শিউলি ফুল দুই প্রকার পদ্ধতিতে বংশবিস্তার করা সম্ভব।

  • বীজ থেকে বংশবিস্তার করা সম্ভব।
  • গুটি কলম পদ্ধতিতে বংশবিস্তার করা যায়।

জলবায়ু

জবা গাছের চাষের জন্য খুব বেশী নয় এমন আর্দ্র মাটি প্রয়োজন। তবে মাটি যাতে বেশী ভিজে কাদা কাদা না হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। আর কোনো কারণে মাটি স্যাঁতসেঁতে থাকলে সেই কয়দিন জল দেওয়ার প্রয়োজন নেই। এছাড়া প্রতিদিন নিয়ম করে জল দেওয়া উচিৎ।

টব..শিউলি ফুল চাষের জন্য ২৫ সেমি উচ্চতার টব হলে ভাল হয়।

সার মাটি.. যে কোনও মাটিতেই শিউলি গাছ জন্মায়।  তবে ভাল চাষের জন্য দোঁয়াশ মাটি হলে ভাল হয়। আপনি যদি টবে শিউলি চাষ করতে চান তাহলে প্রথমেই যেটি করবেন, পরিমান মতো  দো-আঁশ   বা বেলে মাটি, এর সাথে অল্প লাল সিলেকশন বালি, এমুঠো হাঁড়ের গুঁড়ো, দু’মুঠো ছাই মিশিয়ে নিন।  এতে টবের মাটি ভাল থাকবে। এর সঙ্গে কিছুটা পরিমান পাতা পচা সার, গোবর, খৈল ও কিছুটা  টিএসপি সার মিশিয়ে মাটি তৈরি করলে ভাল হয়।

সার.. গোবর সার, চাপান সার ও তরল সার এই গাছের জন্য ভাল। নিমের গুড়ো খোল, কাঠের ভষ্ম, গুঁড়ো হাড়, ও গোবড় সার মিশিয়ে তৈরী করুণ চাপান সার। বর্ষাকাল থেকে হেমন্তকাল পর্যন্ত তরল সার দিতে হবে।

পরিচর্যা

এপ্রিল মাসের শেষে বীজ পুঁতলে বর্ষাকালের শেষে ফুল পাওয়া যায়। সার হিসেবে চাপান সার বা তরল সার দিতে হবে। শিউলি গাছে জল দেওয়ার সময় খেয়াল রাখতে হবে যাতে গোড়ায় জল না জমে।  মাসে দুবার মাটি খুঁচিয়ে দিতে হবে। মাটি যদি কোনো কারণে স্যাঁতস্যাঁতে হয়, তাহলে কলি ঝরে যাবে।

শিউলি ফুলের ঔষধি গুণ

শিউলি গাছের নানান ঔষধি গুন রয়েছে। তাই তো আয়ুর্বেদে জবার অনেক ব্যবহারের কথা শোনা যায়। শিউলি পাতার রষ বেটে খাওয়ালে কৃমি দুর হবে।

ডাল ছাঁটাই

একটি সতেজ গাছ তৈরির প্রক্রিয়াটি হল গাছটি বড় হলে ডালের অনেকটা ছেটে দিতে হবে। অবশ্যই দেখবেন তার সিজনের ফুল দেওয়া শেষ হয়েছে কিনা। এরপর মঞ্জরীও ছেঁটে দিতে পারেন। এরপর কয়েকদিন পর কান্ডের পাশ থেকে শাখা বের হবে, তাদের মধ্যে কয়েকটি শাখা রেখে বাকীগুলি ছিড়ে ফেলুন। এরপর গাছের গোড়ায় মাটি দিন। সতেজ গাছ রাখতে হলে একটি সোজা শাখা ও ৪-৫ টি পার্শ্ব শাখা রাখতে হবে। গাছের পার্শ্ব কুঁড়িগুলি ছাটলে, অনেক ফুল হবে। বেশী ফুল পেতে হলে গাছের আগা ভেঙ্গে দিন। এতে ঝাকড়ানো গাছ হবে। ছাঁটাই এর পরে চাউবান্টিয়া পেন্ট ব্যবহার করুন।