টবে গাঁদা ফুলের চাষ

গাঁদা ফুলের পরিচিতি:

  • ফুলের নামঃ  গাঁদা,
  • ইংরাজি নাম: Merry Gold,
  • বৈজ্ঞানিক নামঃ Tagetes erecta,
  • পরিবারঃ Compositae

গাঁদা ফুলের বৈশিষ্ট্য: 

  • এটি একটি কন্দজাতীয় ফুল,
  • প্রতি গাছে ফুলের সংখ্যা প্রায় ১৫-১৬ টি থাকে,
  • সাধারণত ফুল সতেজ থাকে  ৮-১০ দিন পর্যন্ত।

গাঁদা ফুলের রং:

গাঁদা ফুলের পাপড়ির সুন্দর ও অসাধারণ বিন্যাস ফুলটিকে অন্যদের থেকে আলাদা করে তোলে। গাঁদা ফুল বিভিন্ন আকারের ও রংয়ের হয়। যেমন উজ্জ্বল হলুদ, উজ্জ্বল কমলা, সাদা-বাদামী, খয়েরী, খয়েরী ছিটানো সাদা, আবার খয়েরীর মাঝে হলুদের ছোপ ছোপ  ইত্যাদী।

গাঁদার জাত বা শ্রেনী:

গাঁদা ফুলের বহু প্রজাতি থাকলেও গাঁদা ফুলের শ্রেণী বা জাতকে প্রধানত: দু’ভাগে ভাগ করা যায় ।

  • আফ্রিকান গাঁদা- এই ধরনের গাঁদা ফুল সাধারণত উজ্জ্বল হলুদ রংয়ের হয়। এই গাঁদা ফুল বেশ জনপ্রিয়। এই শ্রেণীর গাঁদা গাছও বড় হয়। ইহাও কয়েকটি ধরনের হয়। যেমন ইনকা, গিনি গোল্ড, ইয়েলা সুপ্রিম, জুবিলি, গোল্ডস্মিথ, ম্যান ইন দি মুন, ইত্যাদি;
  • ফরাসী গাঁদা- এই ধরনের গাঁদা ফুল সাধারণত উজ্জ্বল কমলা রংয়ের হয়। এই ধরনের গাঁদা ফুল বেশ জনপ্রিয়। এই শ্রেণীর গাঁদা গাছ তুলনায় ছোটো হয়। এই ধরনের ফুলের পাঁপড়ির গোড়ায় কালো রংয়ের হয়। ইহাও কয়েকটি ধরনের হয়। যেমন ডেন্টি মেরিয়েটা, হারমনি, লিজন অব অনার, স্প্যানিশ ব্রোকেড ইত্যাদি; এই প্রজাতির গাছের শাখা প্রশাখা বেশি হওয়ায় অনেক ফুল হয়।অনেক দিন পর্যন্ত ফুল ফোঁটে। প্রতি গাছে নিয়মিত ৫০-৬০ টি ফুল পাওয়া যায়।
  • বাংলাদেশে সাদা গাঁদা,
  •  জাম্বো গাঁদা ,
  • রক্ত বা চাইনিজ গাঁদা।
  • রাজ গাঁদা।

গাঁদা ব্যবহারঃ গাঁদা ফুল টবে,বাড়ির উঠান, ঘরের বারান্দা ইদ্যাদি জায়গায় সাজালে সেখানকার সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে।

টবে গাঁদা ফুলের চাষের জন্য যা করা দরকার তা হলঃ

বংশবিস্তার পদ্ধতি: 

গাঁদা ফুল দু প্রকার পদ্ধতিতে বংশবিস্তার করা সম্ভব।

  • বীজ থেকে বংশবিস্তার করা সম্ভব।
  • শাখা কলম পদ্ধতিতে বংশবিস্তার করা যায়।
  • এছাড়াও কেনা চারা টবে বসানো যায়।

জলবায়ু

গাঁদা গাছের চাষের জন্য আর্দ্র মাটি প্রয়োজন। তবে মাটি যাতে বেশী ভিজে কাদা কাদা না হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। আর কোনো কারণে মাটি স্যাঁতসেঁতে থাকলে সেই কয়দিন জল দেওয়ার প্রয়োজন নেই। এছাড়া প্রতিদিন নিয়ম করে জল দেওয়া উচিৎ।

টব..গাঁদাফুল চাষের জন্য মাঝারি ও বড় যে কোনো আকারের টব প্রয়োজন। বড় আকারের টবে গোটা ৪-৫টি চারা লাগানো যেতে পারে।  

মাটি ও পরিবেশ

গাঁদা ফুল চাষের জন্য এঁটেল মাটি ও দোঁয়াশ মাটিতে গাঁদা গাছের ভাল চাষ হয়। তবে ভাল ভাবে চাষ করলে অন্য ধরনের মাটিতেও চাষ সম্ভব। তবে দেখতে হবে মাটিতে যেন অধিক জল না জমে। শুধু জলই নয়। সূর্য্যের আলো যেন ঠিক ঠাক পায়। টবের মাটি যেন সবসময় ছোটো ও ঝুরঝুরে হয়। শেষে মাটিতে গোবর সার দিন। ফরাসী গাঁদার জন্য মাটিতে অল্প সার দিলেও আফ্রিকান গাঁদার জন্য বেশী দিতে হবে।

সার.. গোবর সার ও রাসায়নিক সার এই গাছের জন্য ভাল। এছাড়া পরিমান মতো ইউরিয়া,টিএসপি,জিপসাম,এমওপি ইত্যাদী দেওয়া যেতে পারে।

সার প্রদান

বর্ষাকালে চাপান সার ও পাতার সার দিতে হবে।

বর্ষা শুরু হওয়ার পর ১৫-২০ দিন ছাড়া ছাড়া তরল সার দিতে হবে।

চাষের নিয়ম

টবে যাতে নিকাসী ব্যবস্থা ঠিকঠাক থাকে সেদিকে দেখতে হবে। দু সপ্তাহ বয়সের ফুল কেটে বাদ দিতে হবে। এরপর গাছে অনেক ফুল আসবে।

ফুল উৎপাদনঃ

 গাঁদা ফুল সারা বছরে তিনবার উৎপাদন করা যায়।

  • ফুল দেওয়ার সময়: বর্ষাকাল, চারা রোপণ করার সময়ঃ জুলাই এর মাঝামাঝি
  • ফুল দেওয়ার সময়: শীতকাল, চারা রোপণ করার সময়ঃ অক্টোবরের এর মাঝামাঝি
  • ফুল দেওয়ার সময়: গ্রীষ্মকাল, চারা রোপণ করার সময়ঃ ফেব্রুয়ারী-মার্চ এর মাঝামাঝি

পরিচর্যা

আপনাকে প্রথমে প্লাস্টিকের পাইপ, পাট কাঠি,শক্ত লাঠি,কঞ্চি জোগাড় করতে হবে। এরপর এগলি দিয়ে গাছগুলিকে ঠেকনা দিয়ে রাখা যায়। এরপর সার হিসেবে চাপান সার,পাতার সার ও তরল সার দিতে হবে। বাড়ন্ত গাছের ক্ষেত্রে এগুলি নিয়মিত দিতে হবে। এছাড়া গাছের তাড়াতাড়ি বৃদ্ধির জন্য কীটনাশক দেওয়া প্রয়োজন।

ডাল ছাঁটাই

একটি সতেজ গাছ তৈরির প্রক্রিয়াটি হল গাছটি বড় হলে ডগাটি ছেটে দিতে হবে। এরপর কয়েকদিন পর কান্ডের পাশ থেকে শাখা বের হবে, তাদের মধ্যে কয়েকটি শাখা রেখে বাকীগুলি ছিড়ে ফেলুন। এরপর গাছের গোড়ায় মাটি দিন। সতেজ গাছ রাখতে হলে একটি সোজা শাখা ও ৬-৭ টি পার্শ্ব শাখা রাখতে হবে।


গাঁদা ফুলের পোকামাকড়  প্রতিকার:

গাঁদা

গাঁদা ফুলের গাছে সে অর্থে পোকা আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া যায় না। অনেক সময় ছত্রাকের আক্রমনে গাঁদা ফুলের গাছের গোড়া পচে যায়। অনেক সময় গোড়ায় জল জমলে গাছ পচে যায়। এছাড়া কিছু অন্যান্য রোগ সামান্য পরিমানে হলেও দেখা যেমন-উইল্ট, কান্ড পচা ইত্যাদি। অনেক সময় গাছে শামুক দেখা যায়। যা থেকে গাছের ক্ষতি হতে পারে। এক্ষেত্রে শামুক দেখলেই তুলে ফেলতে হবে। পারলে সামা্ন্য চুন ছিটিয়ে দিলে হবে। গাছে ছত্রাকের প্রাদুর্ভাব ঘটলে টবে চারা লাগানোর আগে ভালোভাবে মাটি রোদে রাখতে হবে।  এক্ষেত্রে গাছে ছত্রাকের আক্রমণ বেশি হলে ছত্রাকনাশক স্প্রে করা আবশ্যক।