শ্রীমতি রাধারানীর অনেক সখী আছে, কিন্তু তাঁর মধ্যে প্রধান আটজন সখী, তাঁরা হলেন

  • ১) ললিতা
  • ২) বিশাখা
  • ৩) চম্পকলতা
  • ৪) চিত্রা
  • ৫) তুঙ্গবিদ্যা
  • ৬) ইন্দুলেখা
  • ৭) রঙ্গ দেবী
  • ৮) সুদেবী

রীমতি রাধা ঠাকুরানীর “অষ্ট সখী ” একবার রাধা তাড়াতাড়ি আসতে গিয়ে কাজল না পড়ে চলে আসে, শ্যামের বাঁশী শুনে। সব সাজছে রাধা, কাজল দিতে ভুলে গেলেন। তা দেখে শ্রীকৃষ্ণ নিজের হাতে এইস্থানে শ্রীরাধার নয়নে অঞ্জন মানে কাজল পরিয়ে ছিলেন, সেইজন্য এই স্থানের নাম আঁজনক বলে পরিচিত। এই মন্দিরের কুন্ডের পাশে শিলা থেকে কৃষ্ণ কাজল পরিয়েছিল রাধাকে শিলাটি নাম অঞ্জনশিলা। মন্দিরে আজও অঞ্জনশিলা আছে কৃষ্ণের আঙ্গুল স্পর্শ চিহ্ন আজও আছে । তাই গ্রামের নাম আঁজনক। প্রতিটি সখীর নিজ নিজ নিকুঞ্জ আছে। ইন্দুলেখা সখীর কুঞ্জ হল রাধাকুন্ডের অগ্নিকোণে অর্থাৎ পূর্ব দক্ষিণ কোণে “পূর্বেন্দ্র কুঞ্জ” নামে কুঞ্জ। শ্রীইন্দুলেখা সখী জন্ম ভাদ্রমাসের শুল্কাপঞ্চমী তিথিতে। বাবার নাম সাগর, মা নাম বেলা, পতির নাম দূর্ব্বল। ইন্দুলেখার অঙ্গবর্ণ চম্পক মানে চম্পা ফুলের মত, স্বর্ণের কান্তির মত। অঙ্গের বস্ত্রের রং ছিল অনার ফলের রংয়ে বস্ত্র ধারণ করত সখী ইন্দুলেখা।
তিনি শ্রীকৃষ্ণের বল্লভা। ইন্দুলেখার ভাব ছিল বাসকসজ্জা । এই ভাবে ভগবানের সেবা করতেন। তাঁর স্বভাব বামাপ্রখরা। রাধা মাধব সেবার মধ্যে ইন্দুলেখা সখী “অমৃত ভোজন তৈরি করার সেবা”। রাধা মাধবকে নিত্য নতুন ব্যঞ্জন বানিয়ে সেবা করে। আবার চামর সেবা করত ইন্দুলেখা সখী। শাস্ত্রে বলে তাঁর বয়স “চৌদ্দ বর্ষ তিন মাস দশ দিন বলা হয়েছে। শ্রীমতি রাধার কৃষ্ণাভিসারে এক অপরিহার্য সখী হল ইন্দুলেখা। তাঁর যুথে আটটি মঞ্জুরী আছে— তুঙ্গভদ্রা, রসোতুঙ্গা, রঙ্গবাটী, সুমঙ্গলা, চিত্রালেখা, মোদনী, মদনালসা, বিচিত্রাঙ্গী। । ইন্দুলেখা সখী নবদ্বীপে গৌরলীলাতে শ্রীবসুরামানন্দ।

রাধাজন্মোৎসবের পূজন, ভজন, ধ্যান ও কর্তব্যাঙ্গুষ্ঠানাদি …………..

“সৰ্ব্বদা পশ্চিমম্বারে শ্ৰীয়াধী কৃষ্ণমন্দিয়ে। ধবজল স্বস্তুকলসপতাকাতোল্পণাদিভিঃ ॥ নানাসুমঙ্গলদ্রব্যৈর্যথাবিধি প্রবর্ততে । সুবাসিতগন্ধপুষ্পেধু পৈশ্চ ধুপিতৈগুৰ্ণন ॥ মধ্যে পঞ্চবর্ণচুণৈর্মগুপং সসরোরুহম্। মুষোড়শদলাকায়ং তত্র নিয়ায় যত্ন তঃ ॥ দিব্যাপনে পদ্মমধ্যে পশ্চিমাভিমুখীং স্থিতাম্। প্রযুগ্মমূৰ্ত্তিং সুপান্ত ধ্যানপদ্যদেভি: ক্ৰমাৎ ॥ ভক্তৈ: সহ সজাতীয়ৈ: শক্যামুসারবস্তুভি । তদ্ভূক্ত: পুঞ্জয়েভুক্ত্য তাং সদা সংযতেন্দ্ৰিয়: ॥”

উক্ত রূপে ভক্ত সামথ্যামুযায়ী পুজার আয়োজন করে,………… সংযতেঞ্জিয় হয়ে পুজা করবেন । পুজাকালীন ধ্যান যথা—

“হেমেনীবরকাস্তিমঞ্জুলতরং শ্ৰীমজ্জগন্মোহনং নিত্যাভিললিতাদিভিঃ পরিবৃতং সীলপীতাম্বরম্। হীরাপ্তারাসুকীর ভুঞ্জকটক-তুলকোটরে রত্নক গু|প্তঙ্গ। পদাঙ্গুরীয়চ্ছবিরিতি রবিভিভূষণের্ডাfত রাধা ।” শ্রীরাধা-প্রকরণ, ৮ম শ্লোক । “তাৰ্থ সুন্দাবনেশ্বৰ্য্যা: কীৰ্ত্ত্যন্তে প্রবর গু৭t: [ মধুরেয়ং নববয়াশ্চলাপাঙ্গোজ্জ্বলম্মিত চার সৌভাগ্যরেখাঢ্য গন্ধোন্মাদিতমাধবা। সঙ্গীতুপ্ৰসরাস্তিত্ত। রম্যবাশ্বনৰ্ম্মপণ্ডিত । কিজি করুণ।পূর্ণ বিদগ্ধ পাটবাস্থিত । লজ্জাশীল। সুমধ্যাদ। ধৈর্য্যগাষ্ঠীৰ্য্যশালিণী ॥ তুবিলাস মহাল্পবিপরমোৎকৰ্ষতর্ষিণী । গোকুলপ্রেমবসতির্জগচ্ছে শালসদৃযশা; } গুৰ্ব্বপিতগুরুল্লেহ। সর্থী প্রণয়িতাবশ । কৃষ্ণপ্রিয়াবলীমুখ্য সস্তুতাশ্রবকেশব । বঙ্গন কিং গুণ হস্যঃ সংখ্যাতীত হয়েরিব।”

প্রীরাধা-প্রঙ্করণ, ৯সংথ্যাঙ্কিত শ্লোকসমুং ।