ভারতবর্ষে আইনের বইয়ে সে সব পরিষ্কার ভাবে লেখা রয়েছে। কিন্তু বেশির ভাগ মহিলাই তার খবর রাখেন না। প্রত্যন্ত গ্রাম ও শহরতলি তো বটেই, শহরেও সমাজের বড় অংশে এই সচেতনতার বড্ড অভাব, এমনকী বহু শিক্ষিত পরিবারেও একই ছবি। 2005 সালে সংশোধন করা হয়, এর আগে, পুত্র এবং কন্যাদের সম্পত্তির অধিকার ভিন্ন ছিল৷ ছেলেদের তাদের পিতার সম্পত্তির সম্পূর্ণ অধিকার ছিল, কিন্তু মেয়েরা এই অধিকার বিয়ে না হয়ে যাওয়া পর্যন্ত ভোগ করতে পারতেন৷ বিয়ের পরে একটি মেয়ে তাঁর স্বামীর পরিবারের অংশ হয়ে ওঠেন৷ হিন্দু আইনের অধীনে, একটি হিন্দু অবিভক্ত পরিবার (HUF) হচ্ছে একটি গোষ্ঠী, যার মধ্যে একাধিক ব্যক্তি রয়েছেন, যাঁরা একই পূর্বপুরুষের অংশধর৷ হিন্দু, জৈন, শিখ অথবা বৌদ্ধ ধর্মের মানুষ দ্বারা একটি HUF গঠিত হতে পারে৷ আইন কিন্তু বলছে, বিয়ে হোক বা না-হোক বাবার সম্পত্তির সমান উত্তরাধিকারী মেয়েরা।

হিন্দু উত্তরাধিকার আইন, 2005 অনুযায়ী, এখন বিবাহিত মেয়েদের তাঁদের পিতার সম্পত্তির উপর অধিকার আছে৷

হিন্দু উত্তরাধিকার আইন, 2005-এ মেয়েদের অধিকার

পূর্বে, একজন কন্যার বিবাহের পরে, তাঁর পিতার HUF-এর অংশ হওয়া সমাপ্ত হত৷ এটিকে অনেকে মেয়েদের সম্পত্তির অধিকার থেকে বঞ্চনা হিসেবে মনে করেন৷ কিন্তু 9ই সেপ্টেম্বর, 2005-
এ, হিন্দু উত্তরাধিকার আইন, 1956, যেটি হিন্দুদের মধ্যে সম্পদের বিলাপণকে নিয়ন্ত্রণ করে, সেটি সংশোধন করা হয়৷

হিন্দু উত্তরাধিকার সংশোধন আইন, 2005 অনুযায়ী প্রত্যেকটি কন্যাকে, বিবাহিত অথবা অবিবাহিত, তাঁর পিতার HUF- এর সদস্য হিসেবে বিবেচিত করা হয় এবং  তাঁর HUF সম্পত্তির ‘কর্তা’ (যিনি পরিচালনা করেন) হিসেবেও নিয়োগ করা যেতে পারে৷ সংশোধনীটি, আগে যে সকল অধিকার, কর্তব্য, দায়দায়িত্ব এবং অক্ষমতা, শুধুমাত্র ছেলেদের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকত, মেয়েদেরও প্রদান করে৷ একটা সময়ে বাবার সম্পত্তিতে মেয়েদের অধিকার নিয়ে কম বিতর্ক হয়নি। বিবাহিতারা সে সময়ে বাবার বাড়িতে অধিকার দাবি করতে পারতেন না।

পূর্বে এই রায় অনুযায়ী, একজন মেয়ে সংশোধনী দ্বারা প্রাপ্ত উপকারের লাভ ওঠাতে পারেন যদি তাঁর পিতা 9ই সেপ্টেম্বর, 2005-এর পরে মারা যান এবং মেয়েটি শুধুমাত্র সহ-অংশীদার হওয়ার যোগ্য, যদি পিতা এবং কন্যা দুজনেই বেঁচে থাকেন 9ই সেপ্টেম্বর, 2005 তারিখে৷ যদিও, 2রা ফেব্রুয়ারী, 2018, সুপ্রিম কোর্ট এটিকে একটি সাধারণ রীতি হিসেবে প্রচলিত করেছে, যে সংশোধনের তারিখের ভিত্তিতে, একটি মেয়ে, জীবিত বা মৃত, তাঁর পিতার সম্পত্তিতে ভাগ পাওয়ার অধিকার রাখেন এবং তাঁর সন্তানেরাও ঐ সম্পত্তিতে দাবি করার অধিকার রাখেন৷

এজমালি সম্পত্তির শরিক হওয়ার জন্য সমান অধিকার

একটি শরিকানী বাড়ির সবচেয়ে জ্যেষ্ঠ সদস্য এবং একটি পরিবারের তিন প্রজন্ম দ্বারা গঠিত হয়৷ উদাহরণস্বরূপ, আগে এটির অন্তর্ভুক্ত ছিলেন একজন পুত্র, তাঁর পিতা, তাঁর পিতামহ এবং তাঁর প্রপিতামহ৷ এখন পরিবারের মহিলারাও এজমালি সম্পত্তির শরিক হতে পারেন৷

  • শরিকানার অধীনে, একজন শরিক জন্মের মাধ্যমে এজমালি সম্পত্তির শরিক হওয়ার অধিকার অর্জন করেন৷ সম্পত্তিতে শরিকের স্বার্থ এবং অংশের ভাগ, সদস্যদের জন্ম এবং মৃত্যুর ভিত্তিতে ওঠা নামা করতে থাকে৷
  • পূর্বপুরুষের সম্পত্তি এবং স্ব-সম্পত্তি উভয়েই একটি এজমালি সম্পত্তি হতে পারে৷ পূর্বপুরুষের সম্পত্তির ক্ষেত্রে সকল শরিকের মধ্যে সমান ভাবে ভাগ করা হয় এবং স্ব-সম্পত্তির ক্ষেত্রে ব্যক্তি নিজের ইচ্ছানুসারে সম্পত্তির পরিচালনা করার জন্য স্বাধীন৷
  • একজন এজমালি সম্পত্তির শরিকের সদস্য নিজের অংশটি একজন তৃতীয় ব্যক্তিকে বিক্রি করে দিতে পারেন৷ তবে, এই প্রকার একটি বিক্রয় এজমালি সম্পত্তির শরিকদের নিকট  প্রাক-বিক্রয়ের একটি প্রস্তাবের বিষয়বস্তু৷ তবে, অবশিষ্ট সদস্যেরা একজন বহিরাগতের প্রবেশের ক্ষেত্রে প্রতিরোধের উদ্দেশ্যে, প্রথম অস্বীকারের অধিকারযুক্ত থাকেন৷
  • একজন সদস্য না হওয়া এজমালি সম্পত্তির মালিক সম্পত্তি ভাগ করার দাবি নিয়ে একটি মামলা রুজু করতে পারেন, কিন্তু একজন সদস্য নয়৷ সুতরাং, একজন কন্যা, একজন এজমালি সম্পত্তির শরিক হিসেবে তাঁর পিতার সম্পত্তির ভাগের দাবি করতে পারেন৷

আইন বিষয়ক আলোচনা কোনও ভাবেই উকিলের পরামর্শের বিকল্প নয়। কারোর আইন সংক্রান্ত কোনও সমস্যা থাকলে, তাঁর উচিত সরাসরি কোনও আইনজ্ঞের পরামর্শ গ্রহণ করা।