লোকনাথ বাবার আবির্ভাব:-১৮ ভাদ্র ১১৩৭ সাল

তিরোধান: ১৯ শে জৈষ্ঠ,১২৯৭ সাল

লোকনাথ বাবা শ্রীকৃষ্ণের জন্মদিন জন্মাষ্টমীর দিন ১৭৩০ খ্রিষ্টাব্দে (১৮ ভাদ্র, ১১৩৭ বঙ্গাব্দ) কলকাতা থেকে কিছু দূরে চৌরাশি চাকলা নামক গ্রামে একটি ব্রাহ্মন পরিবারে জন্মগ্রহন করেন । তাঁর পিতার নাম রামনারায়ন ঘোষাল । এবং তাঁর মাতা কমলাদেবী । তিনি ছিলেন তাঁর বাবা মায়ের চতুর্থ পুত্র । মহাজ্ঞানী গুরু ভগবান গাঙ্গুলী লোকনাথ ও বেনীমাধব উভয়েরই আচার্যগুরু রূপে তাঁদের উপনয়নক্রিয়া সম্পন্ন করে তাঁদের নিয়ে গৃহ ত্যাগ করলেন। গুরু ভগবান গাঙ্গুলী তাঁদের প্রাথমিক শিক্ষাদান আরম্ভ করলেন কালীঘাটে।

লোকনাথ বাবার পাঁচালি

ত্রিকালজ্ঞ মহাযোগী লোকনাথের জয়।

পাপী তাপী উদ্ধারিতে হলেন উদয়।।

আবির্ভূত হন বাবা কচুয়া গ্রামেতে।

জনমিল লোকনাথ ঘোষাল গৃহেতে।।

পিতা রাম কানাই ঘোষাল কমলাদেবী মাতা।

ধর্মপরায়না তিনি সতী পতিব্রতা।।

একাদশ বর্ষ যবে লোকনাথ হল।

ভগবান গাঙ্গুলি তাঁরে সন্ন্যাস দীক্ষা দিল।।

গৃহত্যাগ করি আর ত্যাজি পরিজন।

গুরু সঙ্গে কালিঘাটে করে আগমন।।

বেণীমাধব বাল্যসাথী সঙ্গেতেই ছিল।

শিষ্যদ্বয়ে গুরু নানা যোগ শিখাইল।।

তারপর আসে তাঁরা হিমাদ্রি শিখরে।

দীর্ঘদিন সাধনায় সিদ্ধিলাভ করে।।

তারপর গুরু সঙ্গে শিষ্য দুইজন।

পৃথিবীর নানা দেশ করেন ভ্রমণ।।

বিভিন্ন ধর্মের তত্ত্ব জানিবার তরে।

উপস্হিত হন মক্কা মদিনা নগরে।।

কাবুলে আসিয়া মোল্লা সাদীর ভবনে।

কোরাণ শরীফ পাঠ করেন যতনে।।

বিশ্ব পরিক্রমা শেষে বেণীমাধব সঙ্গেতে।

উপস্হিত হন চন্দ্রনাথ পাহাড়েতে।।

দাবানল জ্বলে ওঠে বনের ভিতরে।

অগ্নি থেকে রক্ষা করে বিজয় কৃষ্ণ গোস্বামীরে।।

বেণীমাধব চলে যান কামাক্ষ্যা ধামেতে।

বাবা নেমে আসিলেন বারোদী গ্রামেতে।।

বাবাকে প্রথমে চিনিতে না পারে।

পাগল বলিয়া সব উপহাস করে।।

একদিন দুই ব্রাক্ষ্মণের পৈতা জড়াইল।

গায়ত্রী করিয়া বাবা তাহা খুলে দিল।।

চারিদিকে এই কথা প্রচার হইল।

দলে দলে ভক্তবৃন্দ আসিতে লাগিল।।

অতঃপর আশ্রম হইল বারোদীতে।

বহু ভক্তশিষ্য সেথা লাগিল আসিতে।।

পাপী-তাপী, রোগী কত আসিল তথায়।

সবার কষ্ট বাবা করে নিরাময়।।

শিষ্য আর ভক্তে বাবা বলেন একথা।।

আমাকে ঠাকুর রূপে পূজা করা বৃথা।।

শ্রদ্ধাভক্তি নিয়ে যেবা আমারে ডাকিবে।

অবশ্যই সেই ভক্ত মোর সাড়া পাবে।।

আমি নেই এই কথা কোরো না মনেতে।

ছিলাম,আছি,থাকব সদা তোদের মাঝেতে।।

জলে স্হলে যখনই বিপদে পড়িবে।

তখনই আমার কথা স্মরণ করিবে।।

এইরূপে লোকনাথ কত লীলা করে।

কার সাধ্য সেইসব বর্ণিবারে পারে।।

১৬০ বৎসর বাবার বয়স হইল।।

মর্ত্যধাম ত্যাজিতে বাবার ইচ্ছা হইল।।

১২৯৭ সালের ১৯ শে জৈষ্ঠ্যতে।

দেহ ত্যাজি যান  বাবা অমরলোকেতে।।

যার ঘরে বাবার চিত্র রাখিবে যতনে।

অন্নকষ্ট থাকিবে না তাহার ভবনে।।

রোগ শোক দুঃখ কষ্ট সব দূরে যাবে।

পুত্র পৌত্র সহ সবে আনন্দে থাকিবে।।

বাবার পাঁচালী যেবা পড়ে কিংবা শুনে।

পুণ্যবান সেই জন সদা রেখ মনে।।

কোনো মন্ত্র কোনো দীক্ষা নাই তাঁর নামে।

তাঁর নামই মহামন্ত্র এই মর্তধামে।।

যত বেশী তাঁর নাম উচ্চারিত হবে।

মানবকল্যান তত অধিক হবে।।  

উদ্ধৃতি১. রণে, বনে, জলে, জঙ্গলে যখনই বিপদে পড়বি, আমাকে স্মরণ করবি, আমিই রক্ষা করবো।

২. আমার বিনাশ নেই, শ্রাদ্ধও নেই, আমি নিত্য পদার্থ। অর্থাৎ এই ‘আমি’ হলাম গীতায় বর্ণিত ‘পরমাত্মা’

৩. দেখ-অর্থ উপার্জন করা , তা রক্ষা করা, আর তা ব্যয় করবার সময় বিষয় দু:খ ভোগ করতে হয়। অর্থ সকল অবস্থাতেই মানুষকে কষ্ট দেয়। তাই অর্থ ব্যয় হলে বা চুরি হলে তার জন্যে চিন্তা করে কোন লাভই হয় না।

৪. যে ব্যক্তি সকলের সুহৃদ(বন্ধু), আর যিনি কায়মনোবাক্যে সকলের কল্যান সাধন করেন, তিনিই যথার্থ জ্ঞানী।

৫. গরজ করিব, কিন্তু আহাম্মক (নির্বোধ) হবি না। ক্রোধ করিব কিন্তু ক্রোধান্ধ হবি না।