ঐতিহ্যময় হাওড়া স্টেশনের কিছু অজানা ইতিহাস:# ২

৬) ১৮৫২ সালের জুন মাসে, জর্জ টার্নবুল, পুনরায় হাওড়া রেল স্টেশনের সম্পুর্ন ও পরিমার্জিত প্ল্যান জমা দেন। এবারে, সেই প্ল্যান গৃহীত হয় ও স্টেশন তৈরীর জন্য টেন্ডার ডাকা হয়। ১৮৫২ সালের অক্টোবর মাস পর্যন্ত, ৪টি টেন্ডার জমা পড়ে। তখনকার দিনে জমা পড়া ৪টি টেন্ডারের দর ছিল ১লক্ষ ৯০ হাজার টাকা থেকে ২লক্ষ ৭৪ হাজার ৫২৬ টাকার মধ্যে। হাওড়া স্টেশন তৈরীর জন্য, রেল কোম্পানি আনুমানিক খরচের হিসাব ছিল ২লক্ষ ৫০ হাজার টাকা।


৭) রেল কোম্পানি, বর্তমান হাওড়া রেল স্টেশনের জমি অধিগ্রহণ করার আগে, সেই জমিটি ছিল একজন পর্তুগিজ ব্যক্তির, যিনি সেখানে একটি অনাথ আশ্রম চালাতেন ও এর সাথে একটি চার্চ ছিল। কোম্পানি তাঁর কাছ থেকে জমিটি ক্রয় করে, তার অনাথ আশ্রম ও চার্চটিকে কলকাতায় সরিয়ে নিয়ে যাবার ব্যাবস্থা করে দেয়।


৮) যেহেতু তখন হাওড়া সেতু ছিলনা, তাই হাওড়া স্টেশনে যেতে হত নৌকা দিয়ে হুগলী নদী পার করে। আর হাওড়া স্টেশনের দিকে কোন ঘাট না থাকার জন্য, যাত্রীদের আর্মেনিয়ান ঘাটে নেমে, সেখানে থাকা রেল কোম্পানির টিকিট কাউন্টারে ট্রেনের টিকিট কাটতে হত। ট্রেনের টিকিটের সাথে, নদী পারাপার হবার ভাড়াও জুড়ে দেওয়া থাকত। ১৮৮৬ সালে, হাওড়া পন্টন ব্রীজ তৈরী হবার পরে, এই পদ্ধতি বন্ধ হয়।


৯) ওপরে, ছবিতে যে হাওড়া স্টেশন বিল্ডিং দেখা যাচ্ছে, সেটিকে খুব সম্ভবত ১৮৬০ সালে ভেঙে ফেলে, বর্তমানের লাল ইঁট দিয়ে তৈরী হাওড়া স্টেশন নির্মাণের কাজ শুরু হয়।


১০) ১৮৬৫ সালের আগে পর্যন্ত হাওড়া স্টেশনে একটি মাত্র প্লাটফর্ম ছিল। ১৮৬৫ সালে, ট্রেন আসা ও যাওয়ার জন্য, দুটি আলাদা প্লাটফর্ম তৈরী করা হয়। ১৮৯৫ সালে, আরো একটি নতুন প্লাটফর্ম বানানো হয় ও হাওড়ায় মোট প্লাটফর্মের সংখ্যা হয় ৩টি। এই প্লাটফর্মগুলি দৈর্ঘ্যে এমনকিছু বড় ছিল না। এর জন্য ট্রেনের প্রায় ৫টি বগি প্লাটফর্মের বাইরেই থাকত। প্রথমের কোচগুলো ছিল ৪ চাকার। ৮ চাকার কোচ, ১৯০৩ সাল থেকে চালু হয়।


১১) হাওড়ার ওপরে, ক্রমাগত যাত্রীর চাপ বাড়ার জন্য, ১৯০১ সালে, নতুন করে হাওড়া স্টেশনকে গড়ে তোলার প্রস্তাব দেওয়া হয়। নতুন হাওড়া স্টেশনের নকশা করেন ব্রিটিশ স্থপতি হেলসেই রিকার্ডো।


১২) ১৯০৫ সালে, নতুন ৬ প্লাটফর্মের (সাথে আরো ৪টি নতুন প্লাটফর্ম তৈরী করার জায়গা সমেত) হাওড়া স্টেশন সম্পূর্ণ হয় এবং এর উদ্বোধন হয় ১৯০৬ সালে।