আত্মাই সব

কখনও কি মনে হয় যে , কেন কেউ ফুটপাতে জন্ম নেয় আর কেউ রাজ-প্রাসাদে ?

আপনি কি কখনো দেখেছেন যে ,একই ক্লাসে শিক্ষক দুই ছাত্রকে দুই ধরনের পরীক্ষার প্রশ্ন দিয়ে পরীক্ষা নিচ্ছেন ?

এটা চিন্তা করাও অযৌক্তিক যে- একই ক্লাসের কেউ সহজ প্রশ্ন দিয়ে পরীক্ষা দেবে আর কেউ কঠিন প্রশ্ন দিয়ে পরীক্ষা দেবে , এটা হতে পারে না।তেমনি কোন কারন ছাড়াই সৃষ্টীকর্তা কাউকে বিকলাঙ্গ করে পৃথিবীতে জন্ম দিয়ে পরীক্ষা নিবেন আর কাউকে সুস্থ সবল দেহ দিয়ে পরীক্ষা করবেন! ….. কারণ সৃষ্টীকর্তা নিরপেক্ষ । 

এটা কল্পনাও করা যায় না। যে কোন বিধান বা , একজন সাধারণ শিক্ষকও যেমন একই শ্রেনীর ছাত্রদের দুই ধরনের প্রশ্ন দিয়ে পরীক্ষা নিতে পারে না তেমনি কোন কারন ছাড়া সৃষ্টিকর্তা কাওকে ভিখারীর ঘরে আর কাউকে ধনীর ঘরে জন্ম দিয়ে পরীক্ষা নিতে পারে না। পূর্ব কর্ম ছাড়া কাউকে বিকলাঙ্গ আর কাউকে সুস্থ দেহ দিয়ে পৃথিবীতে পাঠাতে পারে না।আত্মার নাতো জন্ম আছে , না আছে মৃত্যু। আত্মার জড় দেহ ত্যাগ করাকেই আমরা মৃত্যু বলে জানি এবং নতুন দেহ ধারন করাকেই জন্ম বলে থাকি। সুতরাং আমরা দেহ নই, আত্মা। এবং পুনর্জমের মাধ্যমে আমরা এক দেহ থেকে আরেক দেহে প্রবেশ করি। আত্মা না তো হিন্দু , বৌধ্য, না খ্রিষ্টান কিংবা মুসোলমান। এই সকল ছাপ শুধু দেহেরই , আমাদের আত্মা চিরচিন্ময়। ভগবানের দিব্য নাম করার মাধ্যমে মৃত্যুর সময় আমাদের চেতনা শুদ্ধ হওয়ার ফলে ভগবানকে স্মরণ করতে পারি আর এভাবেই আমাদের নিত্য আলয় ধামে ফিরে যেতে পারি, এবং তা এজন্মেই সম্ভব।

লেখক
ড: সুশীল চন্দ্র দাস