এশিয়াটিক সোসাইটির প্রতিষ্ঠাতা:  সোসাইটির প্রতিষ্ঠাতা স্যার উইলিয়াম জোনস

এই সুপ্রসিদ্ধ গ্রন্থাগারে ও সংগ্রহশালায় সংরক্ষিত আছে অনেক প্রাচীন পুঁথি, বইপত্র, তাম্রসনদ, মুদ্রা, প্রতিকৃতি, ছবি ও আবক্ষ মূর্তি। উল্লেখ্য, অষ্টাদশ শতাব্দীর অন্তিম ভাগে উইলিয়াম জোনস প্রাচ্য সম্বন্ধে গবেষণার উদ্দেশ্যে কলকাতা শহরে একটি উচ্চশিক্ষা সংস্থা প্রতিষ্ঠার জন্য উদ্যোগী হন। ১৭৮৪ খ্রিষ্টাব্দের ১৫ জানুয়ারি তাঁর পাঠানো একটি আমন্ত্রণপত্রে সাড়া দিয়ে বিচারপতি জন হাইড, জন কার্নাক, হেনরি ভ্যান্সিট্রাট, জন শোর, চার্লস উইল্কিন্স, ফ্রান্সিস গ্ল্যাডউইন, জোনাথন ডানকান প্রভৃতি তিরিশ জন ইউরোপীয় বিদগ্ধ ব্যক্তি কলকাতা শহরের পুরাতন সুপ্রিম কোর্ট ভবনের এক সভায় মিলিত হন। এই সভার সভাপতিত্ব করেন মুখ্য বিচারপতি স্যার রবার্ট চেম্বার্স। এই সভায় জোনসের পরিকল্পনা মতো দ্য এশিয়াটিক সোসাইটি নামে একটি প্রতিষ্ঠান স্থাপিত হয়।

এই প্রতিষ্ঠান স্থাপনের মূল উদ্দেশ্য ছিল, এশিয়ার ভৌগোলিক সীমার মধ্যে মানুষ ও প্রকৃতি দ্বারা সৃষ্ট সমস্ত বিষয় সম্বন্ধে অনুসন্ধান ও অধ্যয়ন করা।সংস্থার প্রথম সভায় তৎকালীন গভর্নর জেনারেল ওয়ারেন হেস্টিংস সভাপতিত্ব করেন এবং উইলিয়াম জোনস সহসভাপতির পদ অলঙ্কৃত করেন।

 ওয়ারেন হেস্টিংস এই সংস্থার উদ্দেশ্য সম্বন্ধে সহানুভূতিশীল হলেও তিনি এই প্রতিষ্ঠানের সভাপতি পদে অধিষ্ঠিত হতে অস্বীকার করেন এবং তাঁর অনুরোধে জোনস ১৭৮৪ খ্রিষ্টাব্দের ৫ ফেব্রুয়ারি এই পদে অধিষ্ঠিত হন এবং আমৃত্যু এই পদে থাকেন। প্রথম দিকে এই প্রতিষ্ঠানের কার্যকতী (?) সমিতি ছিল না এবং শুধুমাত্র সভাপতি ও সম্পাদক নামক দুইটি পদ ছিল যারা সমস্ত বিষয় দেখাশোনা করতেন। জোনসের মৃত্যুর পর সভার কাজ অনিয়মিত হয়ে পড়ে এবং হেনরি ট্রেল সহ বেশ কয়েকজন কার্যনির্বাহী সদস্য পদত্যাগ করলে প্রতিষ্ঠানটি কয়েক বছরের জন্য গুরুত্বহীন হয়ে পড়লেও ঊনবিংশ শতাব্দীর শুরু থেকে আবার ঘুরে দাঁড়াতে সক্ষম হয়। ১৮০৮ খ্রিষ্টাব্দে চিকিৎসাশাস্ত্র, ভৌতবিজ্ঞান প্রভৃতির উন্নতি সাধনের জন্য ফিজিক্যাল কমিটি এবং সাহিত্য, দর্শন, ইতিহাস, শিল্পকলা প্রভৃতি বিষয়ের উন্নতি সাধনের জন্য লাইব্রেরি কমিটি গঠিত হয়।