ঝাড়গ্রাম

0
349

ঝাড়গ্রাম

পশ্চিমবঙ্গের পশ্চিম মেদিনীপুর জেলায় ঝাড়গ্রাম অবস্হিত। কলিকাতা থেকে ঝাড়গ্রামের দুরত্ব ১৬৯ কিলোমিটার। জামসেদুর থেকে এর দুরত্ব ৯৬ কিলোমিটার। মেদিনীপুর থেকে এর দুরত্ব ৪০ কিলোমিটার। খড়গপুর থেকে এর দুরত্ব ৪৬ কিলোমিটার।  দুর্গাপুর থেকে এর দুরত্ব ১৫৬ কিলোমিটার। ঝাড়গ্রাম AH46 হাইওয়ের সঙ্গে যুক্ত। সপ্তাহান্তে ছুটি কাটিয়ে আসার জন্য ঝাড়গ্রাম একটি গুরুত্বপূর্ণ জায়গা। চারিদিকে লাল মাটি এবং শাল ও মহুয়ার জঙ্গল জায়গাটার বৈচিত্র অনেকাই বাড়িয়ে দিয়েছে। সাওতাল ও অন্যান্য উপজাতি ভিত্তিক এই ঝাড়গ্রাম ও আশেপাশের জায়গা প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর। ঝাড়গ্রামকে অনেকে কাঠের সৌন্দর্য্য হিসেবে আখ্যা দেয়। উত্তরে বেলপাহারী ও কাঁকড়াঝাড় পাহাড় শ্রেনী, দক্ষিণে সুবর্ণরেখা নদী। ঝাড়গ্রামের উত্তরে পুরুলিয়া ও বাঁকুড়া জেলার সীমানা এবং পূর্বে কংসাবতী নদী ও কিছুটা সুবর্ণরেখা নদী দ্বারা সীমায়িত। ঝাড়গ্রাম এমন একটা জায়গায় অবস্হিত যেখানে পশ্চিমবঙ্গ,ঝাড়খন্ড ও ওড়িষার কমন সীমানা রয়েছে। পর্যটকরা এখানে এসে এর বনাঞ্চলের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্য উপভোগ করবেন, রাজবাড়ী,পুরানো মন্দির দেখতে পাবেন ও সাওতালি গানের সুর শুনে পাবেন। এই জেলাটি পশ্চিমবঙ্গের ২২ তম জেলা হিসেবে ২০১৭ সালের ৪ই এপ্রিল আত্ম্রকাশ করে।     

ঝাড়গ্রামে প্রচুর মন্দির দেখা যায়। যেমন সাবিত্রী মন্দির, দুর্গা মন্দির, কনক মন্দির, উমাপতি মন্দির ইত্যাদী। এছাড়াও ঘোরার মতো আরও সুন্দর জায়গা রয়েছে এখানে।যেমন চিড়িয়াখানা,হাতিবাড়ি,কেন্দুয়া,চিল্কিগড় রাজবাড়ি ইত্যাদি।

ঝাড়গ্রামের ইতিহাস

একসময় এখানে যখন উপজাতীদের মধ্যে বিদ্রোহ দেখা দিল, তখন বাদশা আকবর এই বিদ্রোহ দমন করবার জন্য মান সিংহকে এখানে পাঠালেন। সালটা ১৫৯২। সর্বেশ্বর সিং ও তাঁর বড়দাকে দায়িত্ব দেওয়া হল এই বিদ্রোহীদের দমন করার। বিদ্রোহীদের মধ্যে ছিল সাওতাল,লোধা সহ অন্যান্যরা। সর্বেশ্বর সিংহ রাজপুতদের নিয়ে জঙ্গলে এই বিদ্রোহীদের দমন করেন। পরবর্তীকালে এখানে একটি রাজ্য গঠন করে। পরবর্তীতে রাজপুতরা বাংলাকে দুটি ভাগে ভাগ করল। একটির রাজধানী ঝাড়গ্রাম ও অ্ন্যটির রাজধানী বিষ্ণুপুর। 

ঝাড়গ্রামের দ্রষ্টব্য স্হানগুলি

কেন্দুয়া

কেন্দুয়া হল একটি পখীরালয়। এটি চিল্কিগড় ও ঝাড়গ্রামের মাঝামাঝি একটি জায়গা। চিল্কিগড়ের পথেই কেন্দুয়া পড়ে। ঝাড়গ্রাম শহর থেকে এর দুরত্ব ৯ কিলোমিটার। প্রচুর পাখি বাইরে থেকে এখানে আসে। কয়েক মাস এখানে থাকে, ডিম পাড়ে, বাচ্চা হয়। এরপর চলে যায়।

চিড়িয়াখানা

ঝাড়গ্রাম শহরের পূর্বপ্রান্তে এই চিড়িয়াখানা অবস্হিত। এটি ছোট কিন্তু খুব সুন্দর চিড়িয়াখানা। ঝাড়গ্রাম শহর থেকে এর দুরত্ব ৩ কিলোমিটার। এখানে হরিণ, হাতি,কুমীর,কালো খরগোশ,ভালুক,বিভিন্ন ধরনের বাদর সহ অন্যান্য জন্তু জানোয়ার দেখা যায়। এখানে নানা ধরনের পাখি দেখা যায়।

Address Janglemahal Zoological Garden, Jhargram, Dist : Midnapore (West), Pin –  721507
Telephone No. 03221-255010
E-mail Id

কনক দুর্গা মন্দির

ঝাড়গ্রামের প্রাচীনতম মন্দির হল কনকদুর্গা মন্দির। ঝাড়গ্রাম শহর থেকে ১২ কিলোমিটার দুরে কনক দুর্গামন্দির অবস্হিত। মন্দির প্রাঙ্গনের ভেতর বাচ্চাদের পার্ক রয়েছে। মন্দির চত্বরে প্রচুর বাঁদর রয়েছে। বাঁদরের বাদরামি থেকে একটু সতর্ক থাকবেন। দুলুং নদীর তীরে এই কনক দুর্গা মন্দির অবস্হিত। প্রচুর ভক্ত ও পর্যটক এখানে আসে। দুর্গা পূজার সময় নিষ্ঠা সহকারে পূজা হয়। ঝাড়গ্রাম থেকে টোটো, অটো বা গাড়ী নিয়ে যাওয়া যায় কনক মন্দির।


কনক দুর্গা মন্দির

চিল্কিগড় রাজবাড়ী

কনক দুর্গা মন্দির থেকে এর দুরত্ব ১.৫ কিলোমিটার। দুলুং নদীর তীরে এই রাজবাড়ী অবস্হিত। ঐতিহাসিক ভাবে কনক দুর্গা মন্দির ও চিল্কিগড় রাজবাড়ী খুব গুরুত্বপূর্ণ।

ঝাড়গ্রাম রাজবাড়ী

ঝাড়গ্রামের রাজবাড়ি একটি দ্রষ্টব্য স্হান। ঝাড়গ্রাম শহরের অর্ভন্তরে এটি অবস্হিত। রাজা সর্বেশ্বর সিংহ এখানে রাজত্ব চালাতেন। বর্তমানে এর একটি অংশে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের ব্যাবস্হাপনায় হোটেল হিসেবে ব্যবহৃত হয়। রাজবাড়ী ঘুরে দেখতে ভাল লাগবে।

গড় আবহাওয়া

ঝাড়গ্রামে গরমের সময় ভালই গরম পরে। আবার শীতে ভাল ঠান্ডা থাকে। অনেক সময় শীতের তাপমাত্রা ৪/৫ ডিগ্রীতে নেমে যায়। আবার গরমে এই তাপমাত্রা ৪২-৪৫ ডিগ্রীতে দাঁড়ায়। এখানে বছরে গড়ে বৃষ্টিপাত হয় ১৪০০ মিলিমিটার। বর্ষাকাল এখানে স্হায়ী হয় জুন থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত।

কিভাবে ঝাড়গ্রাম যাবেন?

ট্রেন

কলিকাতা থেকে ঝাড়গ্রাম যাওয়ার অনেক ট্রেন আছে।

১)সাঁতরাগাছি-ঝাড়গ্রাম এক্সপ্রেস ৬৮০০১.. সঁতরাগাছি..সকাল ৬.৪৫ মিনিট-ঝড়গ্রাম সকাল ৯.৩৫ মিনিট,সপ্তাহে ৫ দিন,সময় ২.৫০ ঘন্টা।

২) ইস্পাত এক্সপ্রেস ১২৮৭১..(সুপার ফাস্ট)..হাওড়া..সকাল ৬.৫৫ মিনিট-ঝাড়গ্রাম সকাল ৯.০৮ মিনিট,সপ্তাহে ৭ দিন, সময় ২.১৩ ঘন্টা।

৩)লালমাটি এক্সপ্রেস ১২৮৬৫( সুপার ফাস্ট): হাওড়া..সকাল ৮.৩০ মিনিট-ঝাড়গ্রাম, সকাল ১০.৫১,সপ্তাহে ২ দিন,সময় ২.২১ ঘন্টা।

৪)হাওড়া-ঘাটশিলা এক্সপ্রেস ৬৮০০৩..হাওড়া..সকাল ১০.০০ মিনিট-ঝাড়গ্রাম দুপুর ১২.৪৫ মিনিট,সপ্তাহে ৭ দিন সময় ২.৪৫ ঘন্টা।

৫)হাওড়া- রাঁচি ইন্টার সিটি এক্সপ্রেস ২২৮৯১..(সুপার ফাস্ট):হাওড়া.. দুপুর ১২.৫০ মিনিট –ঝাড়গ্রাম দুপুর ৩.১৬ মিনিট-সপ্তাহে ৩ দিন, সময় ২.২৬ ঘন্টা।

এছাড়াও আরো অনেক ট্রেন আছে।যেগুলি রাতের।যেমন শালিমার মুম্বাই এল.টি.টি কুরলা,স্টীল এক্সপ্রেস, কোরাপুট এক্সপ্রেস ইত্যাদী।

বাস গাড়ি: এছাড়া কলিকাতা থেকে সরাসরি দক্ষিণবঙ্গ পরিবহন সংস্হার বাসে যেতে পারেন। আর গাড়ী তো রয়েছেই। গাড়ীতে যেতেও ৩.৩০ ঘন্টার মতো সময় লাগে। হাওড়া থেকে কোলাঘাট, ডেবরা, খরগপুর ছুঁয়ে ঝাড়গ্রামে এ পৌছানো যাবে।

এরোপ্লেন: নিকটবর্তী বিমানবন্দর নেতাজী সুভাষ চন্দ্র বোস বিমানবন্দর। দুরত্ব ১৬৮ কিলোমিটার। এছাড়াও জামসেদপুরে সোনারী বিমানবন্দর আছে। দুরত্ব ৯৬ কিলোমিটার।

থাকার জায়গা

ঝাড়গ্রামে হোটেলের সংখ্যা কম। স্বল্প মূল্য থেকে শুরু করে বেশী বাজেটের হোটেল সবই পাওয়া যায়।আগে থেকে বুক করে গেলে ভাল।

ঝাড়গ্রামে যানবাহন

ক)মোটোর ভ্যান

খ)টোটো

গ)অটো

ঘ)বাস

ঙ)ট্রেকার

খাদ্য

  • বিভিন্ন ধরনের খাদ্য এখানে পাওয়া যায়। হিং এর কচুরী,ছোলার ডাল,আলুর তরকারী।
  • ডিম ভাত,চিকেন ভাত, মাছের মধ্যে পার্শে, ট্যাংরা, ভেটকি,রুই, কাতলা এখানে মেলে। তবে দাম কিন্তু নাগালের মধ্যে। দুদিন বেরিয়ে মাছের পদ সহযোগে ভাত,তৃপ্তি দায়ক।
  • চাউমিন এখানে সর্বত্রই পাওয়া যায়।তবে চাউমিনটা সন্ধ্যের সময় বেশী পাওয়া যায়।