জন শতাব্দী এক্সপ্রেস

জন শতাব্দী এক্সপ্রেস হল অতি দ্রুত গতিশীল ট্রেন।ভারতীয় রেলের অন্তর্গত এই জন শতাব্দী এক্সপ্রেস সারা ভারতে অধিকাংশ রাজ্যের উপর দিয়ে গেছে।জন শতাব্দী এক্সপ্রেস দিনের বেলায় ছাড়ে আর একই দিনে শুরুর স্টেশনে ফিরে আসে।জন শতাব্দী এক্সপ্রেস বিভিন্ন মেট্রো শহরগুলির সাথে অন্যান্য পর্যটন কেন্দ্র,তীর্থস্হান,বাণিজ্যিক শহর ও অন্যান্য শহরের সাথে সংযুক্ত।ভারতীয় রেলে রাজধানী ও দুরন্ত এক্সপ্রেস অতি গতিশীল ট্রেন হিসেবে বিবেচিত হয়।শুধু গতিশীলই নয়।রাজধানী যেমন ঐতিহ্যশালী ট্রেনও বটে।জন শতাব্দীও একই রকম ভাবে এদের মতো অতিদ্রুতগামী ও ঐতিহ্যশালী।রাজধানী এক্সপ্রেসের পর জন শতাব্দী এক্সপ্রেসকে বেশী গুরুত্ব আরোপ করা হয়।রাজধানী বা দুরন্ত এক্সপ্রেসের চেয়ে জন শতাব্দী অনেক কম দুরত্বের ট্রেন।শতাব্দী এক্সপ্রেসের সর্বোচ্চ গতিবেগ ১২০ কিলোমিটার।যদিও ভোপাল শতাব্দী এক্সপ্রেস(১২০০১)সর্বোচ্চ গতি ১৫৫ কিলোমিটার।যা ভারতের তৃতীয় সর্বোচ্চ গতিসম্পন্ন ট্রেন।

প্রথম শতাব্দী   

শতাব্দী মানে শতক বা ১০০ বছর।প্রথম শতাব্দী এক্সপ্রেসের পথচলা শুরু হয়েছিল ১৯৮৮ সালে।তৎকালীন কংগ্র্রেস সরকারের রেল মন্ত্রী মাধবরাও সিন্ধ্রিয়া ভূতপূর্ব প্রধানমন্ত্রী জওহর লাল নেহেরুর জন্ম শতবর্ষ উপলক্ষ্যে জন শতাব্দী ট্রেনের সূচনা করেন।ওনার জন্ম শতবর্ষ উপলক্ষে যেহেতু ট্রেন চালু হয় তাই নাম রাখা হয় জন শতাব্দী।

পরিসেবা 

জজন শতাব্দী এক্সপ্রেসে ঘন ঘন স্টেশন নেই।পথি মধ্যে অল্প কয়েকটি স্টেশনে এটি থামবে।সমগ্র ট্রেনটি বাতানুকূল বিশিষ্ট।এর মান অন্যান্য ট্রেনের থেকে অনেক ভাল।জন শতাব্দী এক্সপ্রেসে যারা যাতায়াত করে তাদেরকে ভারতীয় রেলের পক্ষ থেকে সময়মতো জলের বোতল,জুস,কফি বা চা সহ প্রভাতকালীন খাওয়ার অথবা সান্ধ্যকালীন খাওয়ার দেওয়া হয়।এই ট্রেন সফরের স্বাচ্ছন্দ্য কিংবা সময়মতো ট্রেন পৌছানোর ক্ষেত্রে জন শতাব্দী অতুলণীয়।জন শতাব্দীকে থামার জন্য সব সময় সবচেয়ে ভাল রেলওয়ে প্ল্যাটফর্ম দেওয়া হয়।যেখানে ওয়েটিং রুম আছে।সাধারণত ১ নম্বর প্ল্যাটফর্ম এর জন্য বরাদ্দ থাকে।ট্রেন ছাড়ার আগে এই ট্রেনের আসন সংরক্ষিত করে ফেলতে হয়।জন শতাব্দীতে কোনো শোওয়ার বার্থ নেই।যা আছে সুন্দর সাজানো বসার আসন।ভারতবর্ষের অন্যান্য ট্রেনের মতো এই ট্রেনে কোনো অসংরক্ষিত কামরা থাকে না।কিছু জন শতাব্দীতে আবার আগে থেকে টিকিট বুক করার কোনো ব্যবস্হা নেই।দিনের দিন ট্রেন ছাড়ার কয়েক ঘন্টা আগে টিকিট বুক করতে হয়।সমস্ত ট্রেনটি এসি চেয়ার কার।এর মধ্যে দু তিনটে আবার এসি ফাস্ট ক্লাস।এখানে পা রাখার জায়গাটা অনেক গ্যাপ আছে।খাওয়ার দাওয়ার আরো বেশী দেওয়া হয়।দু একটা ট্রেনে টিভির স্ক্রীন লাগানো আছে।সেখানে স্যাটেলাইটের মাধ্যমে সিনেমা,সিরিয়াল দেখা যায়।প্রথম যে ট্রেনে এটা দেখানোর ব্যবস্হা করা হয়েছে আমেদাবাদ শতাব্দী এক্সপ্রেস। ভারতীয় রেল পরবর্তী কালে প্রায় একই গতির একটু কম খরচের ট্রেন স্বর্ণ শতাব্দী বার করেন।যা বাতানুকূল নয়।কিন্তু সার্বিক ভাবে এর মান খুবই উন্নত ধরনের।

ভারতীয় রেলের অন্তর্গত এই “শতাব্দী এক্সপ্রেস “

কয়েকটি জন শতাব্দী

  • হাবিবপুর নিউ দিল্লী জন শতাব্দী
  • লক্ষ্মৌ নিউ দিল্লী জন শতাব্দী
  • কালকা নিউ দিল্লী জন শতাব্দী
  • চেন্নাই সেন্ট্রাল মাইসোর জন শতাব্দী
  • মুম্বাই সেন্ট্রাল আমেদাবাদ জন শতাব্দী
  • কালকা নিউ দিল্লী জন শতাব্দী
  • অমৃতসর নিউ দিল্লী জন শতাব্দী
  • আজমের নিউ দিল্লী জন শতাব্দী
  • দেরাদুন নিউ দিল্লী জন শতাব্দী
  • হাওড়া রাঁচি জন শতাব্দী
  • পুনে সেকেন্দ্রাবাদ জন শতাব্দী
  • চেন্নাই ব্যাঙ্গালোর জন শতাব্দী
  • কানপুর নিউ দিল্লী জন শতাব্দী
  • লুধিয়ানা নিউ দিল্লী জন শতাব্দী
  • কাঠগুদাম নিউ দিল্লী জন শতাব্দী
  • হাওড়া নিউ জলাইগুড়ি জন শতাব্দী
  • মোগা নিউ দিল্লী জন শতাব্দী
  • চন্ডীগড় নিউ দিল্লী জন শতাব্দী
  • ফিরোজপুর নিউ দিল্লী জন শতাব্দী
  • গুয়াহাটি ডিব্রুগড় জন শতাব্দী
  • নাহারলাগুন গুয়াহাটি জন শতাব্দী
  • চেন্নাই সেন্ট্রাল কোয়েম্বাটুর জন শতাব্দী
  • হাওড়া পুরী জন শতাব্দী