দাদার বিয়ে..ছুটি চাই

একজন সরকারী অফিসের কেরানী নানা অছিলায় বড়বাবুর কাছে ছুটি চায়। প্রথম প্রথম বড়বাবু কেরানীর ছুটি নেওয়ার মিথ্যে অনুনয় বিনুনয়ে গলে যেতেন। ভাবতেন সত্যি বোধহয় তার সমস্যাটা গুরুত্বপূর্ণ। তাই তাকে ছুটি দেওয়া উচিৎ। ব্যাস যেমন ভাবা তেমন কাজ। তৎক্ষণাৎ ছুটি দিয়ে দিতেন। এভাবে কেরানী প্রায়ই বড়বাবুকে বোকা বানিয়ে ছুটি নিতেন। মানে কেরানিটি বড়বাবুর বিশ্বাসের সুযোগ নিয়ে এভাবে চালিয়ে যাচ্ছিল। কিন্তু একদিন কেরানীটির ছুটি নেওয়ার মিথ্যে কারণ বড় বাবুর কাছে ধরা পড়ে গেল। বড়বাবু রেগে লাল। যাইহোক এভাবেই চলছিল। এখন আর কেরানীটির কোনো ছুটি মঞ্জুর হয় না। সত্যিকারের কারণ হলেও না। কেরানীটির মন খারাপ। একদিন কেরানীটির মাথায় বুদ্ধি খেলে গেল। মানে কিভাবে বড়বাবুকে বোকা বানিয়ে ছুটি নেওয়া যায়।

একদিন কেরানীটি বড়বাবুকে বললেন: স্যার কালকে আমার ছুটি চাই।

বড়বাবু বললেন: কিন্তু কেন?

কেরানীটি বললেন: স্যার কালকে আমার দাদার বিয়ে।

বড়বাবু অনেক ভেবে মনে হল কেরানীটি সত্যি কথা বলছে। কারণ দাদার বিয়ে বলে কথা। এখানে আর কিবা মিথ্যা বলার আছে। ছুটি মঞ্জুর করলেন।

হে হে …………. হে হে …..

কয়েকদিন পর আবার ছেলেটি এসে বড়বাবুকে বললেন: স্যার কালকে আমার ছুটি চাই। কারণ কাল আমার দাদার বিয়ে।

বড়বাবু হতভম্ব। এটা কি করে সম্ভব? রাগত স্বরে বলেই ফেললেন: আমার সাথে ইয়ার্কী মারছ। এই তো কয়েকদিন আগে দাদার বিয়ে উপলক্ষ্যে ছুটি নিলে। দাদার বিয়ে উপলক্ষে কবার ছুটি লাগে।

কেরানীটি ঠান্ডা কন্ঠে বলিলেন: স্যার আমি মিথ্যে বলি নি।

বড়বাবু বললেন: একজনের কবার বিয়ে হয়?

কেরানীটি বললেন: স্যার দাদা তো নিজে বিয়ে করছে না।

বড়বাবু বললেন: এর মানে।

কেরানীটি বললেন: স্যার আমার দাদা বিয়ে করতে যাবে কেন? আমার দাদা বিয়ে দেয়। মানে আমার দাদা পুরোহিত। আর এখন ভরা বিয়ের সিজন চলছে তো। পরপর বিয়ে চলবে। দাদাকে সহযোগীতা করতে হবে তো। তাই মাঝে মাঝে ছুটি চাই।

বড়বাবু ততক্ষণে কুপোকাত।