গঙ্গানদী

ভারতের প্রধান পবিত্র নদী গঙ্গা। হিন্দুদের কাছে এই নদীর ধর্মীয় বিশ্বাস অনেক। গঙ্গার দৈর্ঘ্য প্রায় ২৫০০ কিলোমিটারের বেশী। পৃথিবীর অন্যতম বৃহৎ নদীগুলির একটি। গঙ্গার ভারতের সংস্কৃতি, পরিবেশ ও অর্থনৈতিক বিস্তারের ক্ষেত্রে গঙ্গা নদীর ভূমিকা গুরুত্ব পূর্ণ। কত মানুষ গঙ্গার উপর তাদের দৈনন্দিন জীবন যাত্রা নির্বাহ করে। ভারতের প্রাচীন নদীগুলির মধ্যে গঙ্গা অন্যতম। গঙ্গা নদীকে হিন্দুরা দেবী জ্ঞানে পূজা করে।

গঙ্গার তীরে অবস্হিত জনপদ

ভারতের অধিকাংশ তীর্থ ক্ষেত্র, গুরুত্বপূর্ণ শহর গঙ্গার পাড়ে অবস্হিত। গঙ্গাকে কেন্দ্র করে পূর্বে অনেক শহর বা  তীর্থক্ষেত্র্র গড়ে উঠেছে। যেমন দেবপ্রয়াগ, ঋষিকেশ, হরিদ্বার, কানপুর, প্রয়াগ বা এলাহাবাদ, হাজিপুর, ভাগলপুর, পাটনা, কাশি, মুঙ্গের, বহরমপুর, নবদ্বীপ, কাটোয়া, কলিকাতা, ডায়মন্ডহারবার  এবং গঙ্গাসাগর আরো অনেক নাম করা শহর।

গঙ্গার উপৎওি বিস্তার

গঙ্গার উৎস পশ্চিম হিমালয়ের ১২৭০০ ফুট উচ্চতা সম্পন্ন গঙ্গোত্রী হিমবাহ থেকে। গঙ্গার উপৎওি স্হল গোমূখ নামেই পরিচিত। গোমূখের উপরেই রয়েছে তপোবন। অসাধারন জায়গা। গোমূখ থেকে নির্গত হওয়ার পর গঙ্গা নদী উওরাখন্ড, উওরপ্রদেশ, বিহার ও পশ্চিমবঙ্গ ঘুরে বঙ্গোপসাগরে মিশেছে। অবশ্য পশ্চিমবঙ্গে ঢোকার পর গঙ্গার একটি শাখা পদ্মা নাম নিয়ে ফারাক্কার কাছে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। পরে তা বিস্তির্ণ বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলার মধ্যে দিয়ে অতিবাহিত হয়ে বঙ্গোপসাগরে মিশেছে। পশ্চিমবঙ্গে প্রবেশের পর গঙ্গার নাম পরিবর্তন হয়ে হল হুগলী নদী। পরে তা পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলা অতিক্রম করে গঙ্গাসাগরের কাছে বঙ্গোপসাগরে মিশেছে। অবশ্য পশ্চিমবঙ্গে অনেকে গঙ্গাকে ভাগিরথী হিসেবেও চেনে। গঙ্গা গোমূখ থেকে নির্গত হওয়ার পর প্রায় ২৫০ কিলোমিটার গাঙ্গেয় উপত্যকা অতিক্রম করে প্রথমে ঋষিকেশ ও পরে হরিদ্বারে এসে সমতলে প্রবেশ করেছে। গঙ্গার প্রবাহ পথে উওরাখন্ড রাজ্যের গাড়োয়াল ডিভিশনের অন্তর্গত দেবপ্রয়াগে অলকানন্দা নদী (হিমালয় পর্বতের অন্তর্গত নন্দাদেবী, ত্রিশুল, কামেত চূড়া থেকে বরফ গলা জল থেকে অলকানন্দার উৎপওি)এসে মিশেছে। কি অপরূপ নয়নাভিরাম দৃশ্য। একদিকে গঙ্গার ঘোলা জল (যা গোমূখ থেকে গঙ্গাসাগর অবধি একই রঙের, বয়ে চলেছে)অন্য দিকে অলকানন্দার নীল জল সঙ্গম স্হলে এসে মিশেছে। গঙ্গা প্রয়াগ বা এলাহাবাদে এসে যমুনা ও সরস্বতীর সঙ্গে মিশেছে। যা ত্রিবেণী সঙ্গম হিসেবে খ্যাত। গঙ্গার তীরে অবস্হিত হরিদ্বার বা প্রয়াগে কুম্ভ মেলা বসে। লাখ লাখ মানুষ আসেন পূর্ণ কুম্ভে ডুব দিতে। হরিদ্বারে গঙ্গাকে বাঁধ দিয়ে কৃওিম ভাবে পৃথক করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। পরে তা প্রধান নদীতে নিমজ্জিত হয়েছে। এই কৃওিম অংশের গঙ্গার তীরেই গড়ে উঠেছে হিন্দুদের অন্যতম তীর্থক্ষেত্র হরকেপিয়ারি। প্রতিদিন কত তীর্থযাত্রী এখানে আসে তার ইয়ওা নেই।  

ইতিহাসে গঙ্গা

ভারতীয় সভ্যতার মতো গঙ্গার ইতিহাসও পুরোনো। এই ধর্মীয় মাহাত্বই পরবর্তী কালে গঙ্গার অববাহিকায় একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ শহর গড়ে উঠতে সাহায্য করে। ঙ্গা নদীর মূর্তিস্বরূপ এক হিন্দু দেবী। হিন্দুধর্মে এই দেবী বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ স্থানের অধিকারিণী। হিন্দুরা বিশ্বাস করেন গঙ্গায় স্নান করলে সমস্ত পাপ মুছে যায় এবং জীব মুক্তিলাভ করে। অনেকে আত্মীয়স্বজনের দেহাবশেষ বহু দূরদূরান্ত থেকে বয়ে এনে গঙ্গায় বিসর্জন দেন |

গঙ্গার তীরে অবস্হিত গুরুত্বপূর্ণ জনপদ

গঙ্গার তীরে অবস্হিত গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলির মধ্যে অন্যতম হল

  • ঋষিকেষ
  • হরিদ্বার
  • মুজফর নগর
  • মীরাট
  • বেরেলি
  • আলিগড়
  • রায় বেরেলি
  • কানপুর
  • প্রয়াগ / এলাহাবাদ
  • ভাগলপুর
  • কাশী – বেনারস
  • মীর্জাপুর
  • আরা
  • পাটনা
  • ইংরেজ বাজার
  • বহরমপুর
  • কালনা
  • কাটোয়া
  • নৈহাটি
  • ব্যান্ডেল
  • শ্রীরামপুর
  • কলকাতা
  • বজবজ
  • ডায়মন্ড হারবার
  • গঙ্গাসাগর