মুকুটমনিপুরের অবস্হান

পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন পর্যটন কেন্দ্রগুলির মধ্যে মুকুটমনিপুর অন্যতম। ছোটো নাগপুর মালভূমির পূর্ব প্রান্তে বাঁকুড়া জেলায় অবস্হিত এই মুকুটমণিপুর বেশ জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্রগুলির অন্যতম,বিশেষ ভাবে বাঙালির কাছে।সপ্তাহ শেষের দিনগুলিতে ছুটি কাটিয়ে আসার জন্য খুব সুন্দর জায়গা।কলিকাতা থেকে এর দুরত্ব ২৬৪ কিলোমিটার।গাড়িতে সময় লাগে ৬.৩০ ঘন্টা।

দুর্গাপুর থেকে এর দুরত্ব ৯৮ কিলোমিটার।আসতে সময় লাগে মাত্র ২.৩০ ঘন্টা।জামসেদপুর থেকে এর দুরত্ব ৯৯ কিলোমিটার।সময় লাগে ২.৩০ ঘন্টা।এছাড়া বাঁকুড়া,বিষ্ণুপুর সবই এখান থেকে খুব একটা দুরত্বে নয়।

মুকুটমণিপুরের সৌন্দয্য

মুকুটমনিপুর, কংসাবতী বাঁধ, হরিণ উদ্দ্যান সহ পার্শ্ববর্তী ভ্রমণ কেন্দ্রগুলির নয়নাভিরাম প্রাকৃতিক দৃশ্য সার্বিকভাবে আমাদের মন ভরিয়ে দেয়।যেন শিল্পির ক্যানভাসে সুন্দর ছবি আঁকার জন্য অসাধারণ দৃশ্য উপহার দেওয়া হয়েছে।মুকুটমণিপুরের পেছনে সবুজ পাহাড়, কংসাবতী নদীর নীল জল ও সবুজ অরণ্য ভ্রমণ পিপাসুদের আকর্ষণের অন্যতম কারণ।কাছেই রয়েছে ঝাড়খন্ড রাজ্যের সীমান্ত।কংসাবতী ও কুমারী নদীর সংযোগস্হলে একটি শান্ত ও নিরিবিলি জনপদ হল মুকুটমণিপুর। এই শান্ত নিরিবিলি ছবির মতো আঁকা জায়গার টানেই মানুষ ছুটি কাটাতে এখানে ছুটে আসে।

মুকুটমণিপুরের এই বাঁধ ভারতের দ্বিতীয় বৃহওম নদী বাঁধ। এখান থেকে দুই নদীর জল নিয়ে বাঁকুড়া,পুরুলিয়া সহ মেদিনীপুর জেলার বিভিন্ন প্রান্তিক জায়গায় খাল ও নালার মাধ্যমে জল পৌছিয়ে দেওয়া হয়। এতে এই সমস্ত জেলায় চাষ বাসের প্রভূত উন্নতি হয়। কংসাবতী বাঁধ থেকে জল ছাড়ার দৃশ্য দেখতে ভাল লাগে। এই বিরাট আয়তন জলাশয়ে বোটিং ভ্রমণ বেশ আনন্দদায়ক।

ধর্মীয় পথে মুকুটমণিপুর

ধর্মীয় কারণে অনেকে এখানে আসে।বিশেষ করে জৈন ভক্তরা।এখানে একটা জৈনদের মন্দির আছে।মুকুটমণিপুরের কাছে ৪ কিলোমিটার দূরত্বে অম্বিকানগরে জৈন মন্দিরটি অবস্হিত।প্রতিদিন প্রচুর জৈন ভক্ত এখানে আসে।জৈন মন্দিরের পাশাপাশি অম্বিকানগরে বিভিন্ন দেব দেবীর বেশ কিছু মন্দির রয়েছে।

ডিয়ার পার্ক

মুকটমণিপুর বাঁধের মাঝামাঝি জায়গায় ডিয়ার পার্কটি অবস্হিত।এখানে কমবেশী ৪২ টার মতো হরিণ রয়েছে।বোট ভাড়া করে বাঁধের ওপ্রান্তে পৌছানো যায়।এরপর ২ কিলোমিটার হেঁটে বা মোটোর ভ্যানে পৌছে যাওয় যাবে ডিয়ার পার্ক।হেঁটে গেলে সময় লাগবে কমবেশী ১০ মিনিটের মতো।এর সঙ্গে যোগ হয়েছে সবুজ প্রাকৃতিক দৃশ্য যা জায়গাটির সৌন্দর্য্য এক লাফে কয়েকগুন বাড়িয়ে দেয়।এখানে বিভিন্ন ধরনের পাখি দেখা যায়।পাখি দেখতে হলে দূরবীন সাথে থাকলে ভাল হয়।বন দপ্তরের মাধ্যমে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন হওয়া পার্কটিতে বাচ্চাদের ভাল লাগবে।হরিণ ছাড়াও গাছের ডালে বানরের দেখা মেলে।

কংসাবতী বাধ

১৯৫৬ সালে কংসাবতী নদীর উপর এই বিশাল বাঁধ নির্মিত হয়।বাঁধের ওপর দিয়ে রাস্তা চলে গেছে।বাঁধের নীচে লেকে বোট চড়ার ব্যবস্হা রয়েছে।আবার বোটে এপার থেকে ওপারেও যাওয়া যায়।শীতের সময় লেকে কত পাখি চোখে পড়ে।সূর্যাস্তের সময় বাঁধের জলে সূর্যের লাল আভা মাখানো দৃশ্য দেখে ভাল লাগে।সুন্দর রোমান্টিক জায়গা।

মুকুটমণিপুরের আবহাওয়া

মুকুটমণিপুরে রম্য পরিবেশে ঘোরার সবচেয়ে ভাল সময় হল অক্টোবর থেকে মার্চ অব্ধি।এই সময়টায় এখানে খুব ভাল লাগবে।গরমের সময় ভীষণ গরম পড়ে।তাও ৪৬ ডিগ্রীর বেশী তাপমাত্রা থাকে।হাসফাস অবস্হা হওয়ার জোগাড়।বর্ষাকালে এখানে মনোরম লাগে।তবে অত্যাধিক বৃষ্টির কারণ হয়তো ঘোরা হয় না।শীত কালে এখানে খুব ঠান্ডা পরে।তাপমাত্রা ১-৩ ডিগ্রীর আশেপাশে ঘোরাফেরা করে।তবে শীতের সময় বাঁধের দুধারে কুয়াশাচ্ছন্ন পরিবেশ ভালই লাগে।

মুকুটমনিপুরে থাকা খাওয়া

মুকটমনিপুরে সস্তা ও দামী দুধরনের হোটেল রয়েছে।যেমনটা আপনার ইচ্ছা সেখানেই থাকবেন।এখানে খাওয়া দাওয়া খুব ভাল।বিভিন্ন ধরনের মাছ এবং মাংস,ডিম, নিরামিষ পাওয়া যায়।বাঁধের ওপর দিয়ে হাঁটতে ভাল লাগবে।রাতে বাঁধের উপর জ্বলে থাকা বাতিস্তম্ভ দূর থেকে দেখতে ভাল লাগে।বাঁধের ধার ধরে কয়েকটি দোকান রয়েছে।সেখানে সব জিনিষই পাবেন।বিশেষ করে হস্ত শিল্প জাত জিনিষ তো পাবেনই।

 কিভাবে যাবেন ?

ট্রেনে গেলে সাঁরাগাছি থেকে রূপসী বাংলা ট্রেনে গিয়ে নামবেন বাঁকুড়া স্টেশন।সকাল ৬.২৫ টায় হাওড়া স্টেশন থেকে ট্রেন ছাড়ে।সকাল ১০.০৫ টায় ট্রেন বাঁকুড়া ঢোকে।এছাড়া শিড়োমণি ফাস্ট প্যাসেঞ্জার ট্রেনে হাওড়া থেকে বাঁকুড়া।সেখান থেকে ৪৫ কিলোমিটার দূরে মুকুটমণিপুর।গাড়ী ভাড়া করে চলে যান সেখানে।যেতে সময় লাগে প্রায় ১.৩০ ঘন্টা।বাঁকুড়া মাচানতলা থেকে খাতড়া হয়ে বাসে আপনি পৌছে যান মুকুটমণিপুর।ঘন ঘন বাস রয়েছে।এছাড়া কলিকাতার শহীদ মিনার থেকে খাতড়া হয়ে বাসে যাওয়া যায়।এখান থেকে রাস্তা পথে বিষ্ণুপুরে পৌছাতে সময় লাগে ২.৩০ ঘন্টা মতো।দুরত্ব প্রায় ৮৩ কিলোমিটার।

নিজস্ব গাড়ী নিয়ে কলিকাতা থেকে মুকুটমণিপুর যেতে প্রায় ৬.৩০ ঘন্টা সময় লাগে।দুর্গাপুর এক্সপ্রেস ধরে প্রথমে দুর্গাপুর তারপর বাঁকুরা হয়ে সোজা মুকুটমণিপুর।পথিমধ্যে দুর্গাপুর,শক্তিগড়,বর্ধমানে খাওয়ার ভাল রেস্টুরেন্ট রয়েছে।

হাওড়া , সাতরাগাছি আর  শালিমার ষ্টেশন থেকে বিষ্ণুপুর পৌঁছানোর জন্য বেশ কয়েকটি ট্রেন আছে।

ট্রেন নং

ট্রেনের নাম

যাত্রা শুরু

ছাড়ার সময়

গন্তব্য

পৌছানোর সময়

যাত্রার সময়

12883

রূপসীবাংলা এক্সপ্রেস

সাতরাগাছি

06:25 

বিষ্ণুপুর

09:37

02:12

12885

আরণ্যক এক্সপ্রেস

শালিমার

07:45

11:09

03:24

12827

হাওড়া-পুরুলিয়া এক্সপ্রেস

হাওড়া

16:50

20:00

03:10

58013

 হাওড়া-বোকারো প্যাসেন্জার

23:05

03:29

04:24

58011

 হাওড়া-চক্র্ধরপুর প্যাসেন্জার

23:05

03:30

04:25

অন্যান্য জায়গায় কোথায় যাবেন

মুকুটমনিপুর থেকে আপনি কাছাকাছি যে জায়গা গুলিতে যেতে পারেন।

সেগুলি হল……

কাছাকাছি রয়েছে বিষ্ণুপুর, জামসেদপুর, বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, গড় পঞ্চকোট, ঝাড়গ্রাম, পরশনাথ, ঝিলমিল ইত্যাদী।

Coordinates: 22.9495810°N / 86.8046520°E
CountryIndia
StateWest Bengal
DistrictBankura